আসছে বাজেটে সামরিক অস্ত্র, জেট ইঞ্জিন, বিমান-মেডিকেল-কৃষি যন্ত্রপাতিসহ প্রায় শত পণ্যের আমদানি শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর এ উদ্যোগে সায় মিলেছে প্রধান উপদেষ্টার। বিশ্লেষকদের পরামর্শ, ট্রাম্প শুল্কের চাপ মোকাবিলায় অশুল্ক বাধাও দূর করতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় আড়াই হাজার ধরনের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। তালিকায় আছে তুলা, লোহার স্ক্র্যাপ, সামরিক অস্ত্র, বিমান, তেলবীজ, গাড়িসহ নানা ধরনের পণ্য। যেগুলোতে আমদানি শুল্ক সিডির হার শূন্য থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি থেকে আমদানি বাড়ানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সামনে আসে শুল্ক কমানোর চিন্তা।
শুল্ক কমালে আমদানি বাড়তে পারে এমন শতাধিক পণ্য নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে এনবিআর। সোমবার মিলেছে প্রধান উপদেষ্টার সায়। আসছে বাজেটে সিডি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য করা হচ্ছে।
আর এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে স্টাপল ফাইবার, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, বিমানের যন্ত্রাংশ, টার্বো জেট ইঞ্জিন, গার্মেন্টস মেশিনারিজ, কৃষি যন্ত্রপাতি, পোল্ট্রি যন্ত্রপাতিসহ প্রায় একশ ধরনের পণ্য।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের বড় উৎস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নানা ধরনের অস্ত্র আমদানিতে মোট শুল্ক দুইশ ১২ শতাংশ পর্যন্ত। বাজেটে এসব পণ্যেরও ২৫ শতাংশ সিডি তুলে নেয়া হবে। এতে মোট শুল্কহার নেমে আসবে দেড়শ শতাংশে।
এদিকে, মার্কিন তুলা আমদানি বাড়াতে ৭ মে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ বিধিমালা সংশোধন করে এনবিআর। কর্মকর্তারা জানান, এখন চলছে এসওপি তৈরির কাজ। মার্কিন পণ্য আমদানির সব ধরনের অশুল্ক বাধা দূর করার কাজ চলছে বলেও জানান তারা।
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রপ্তানির পণ্যের প্রধান বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। যে কারণে বাংলাদেশি পণ্যে সম্প্রতি উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২৮ মের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া না দিলে মালিক আটক: উপদেষ্টা