সংস্কার নিয়ে সরকারের কমতি না থাকলেও অগ্রগতি নেই অভিযোগ করে বিএনপি নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন যাবার একটি কারণও নেই। তারা বলছেন, সংস্কার চাপিয়ে দেয়া বাকশালেরই নামান্তর। নেতাদের দাবি, নির্বাচন যতো দ্রুত হবে, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ততো বাড়বে। এসময় জাপানে বসে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে মন্তব্যের কঠোর সমালোচনাও করেন তারা।
শনিবার (৩১ মে) বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে আলাদা অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তারা।

‘জনগণ তাকে চিনতে ভুল করেছে’
এদিন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস।
এসময় প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফরে নির্বাচন নিয়ে করা বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, গণতন্ত্রের জন্য যাকে বসানো হয়েছে সরকারের পদে, তাকে চিনতে ভুল করেছে জনগণ।
তিনি বলেন, পাঁচ আগস্টের এই বিজয় গণতন্ত্রের জন্য, নির্বাচনের জন্য। আমরা একজন সেরা লোককে ক্ষমতায় বসিয়েছি। কিন্তু তিনি জাপানে বসে যে কথা বলছেন, তাতে আমাদের মনে হচ্ছে আমরা মানুষ চিনতে ভুল করেছি। আমাদের নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে।

‘নিবন্ধিত নয়, এরাই নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে’
জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিচারিক কার্যক্রমের বাহানা দিয়ে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে নেতাকর্মীরা লালন-ধারণ করতে না পারলে দেশ পরিচালনা অসম্ভব হবে। দলের প্রতিনিধিদের কথা ও কাজে সাধারণ মানুষ যেন আস্থা রাখতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।
খসরু বলেন, যেসব দল জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনীহা প্রকাশ করছে, তারা নিবন্ধিত নয়। এরাই মূলত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মী গুম, খুন হয়েছে, যার জন্য নেতাকর্মী ঘরছাড়া হয়ে মাঠে ক্ষেতে রাত্রি যাপন করেছে; সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি সব করবে।
জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, যতো দ্রুত নির্বাচন হবে, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই।
আর, বিচারিক কার্যক্রমের বাহানা দিয়ে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। এই অন্তর্বর্তী সরকার যাদের বিচারের আওতায় আনতে পারবেনা, বিএনপি তাদের বিচার শুরু করবে। কারণ ফ্যাসিস্ট সরকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বিএনপির; যোগ করেন খসরু।

‘ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন যাবার একটিও কারণ নেই’
অপরদিকে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কৃষক দলের আয়োজনে আরেক অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমদ সমালোচনা করেন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে। বলেন, ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন যাবার একটিও কারণ নেই।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের জন্মই যেন হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা করতে। তিনি এ নিয়ে কখনও কৃতিত্ব নেননি। তবে একটি দল তাকে বিতর্কিত ও ইতিহাস বিকৃত করেছে।
যারা নির্বাচন চায়, গণতন্ত্র চায়, তারা কিছু মানুষের কাছে দেশদ্রোহী হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অত্যাচার ভুলতে বসেছি। পাঁচ আগস্ট না এলে আজও আয়না ঘরে অনেকের থাকতে হতো। পাঁচ আগস্টের ঐক্যকে ভাঙতে চাইছে। আমাদের প্রধান চাওয়া ছিল ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার। এসব আমরা ভুলতে বসেছি।
সংস্কারের মহাকাব্য তো আমরা রচনা করেছি মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, দেশে যদি কোনো সংস্কার হয়ে থাকে, তা হয়েছে বিএনপির হাত ধরে। বাকশাল বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা শুরু করার মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার শুরু হয়।
আমরা গণতান্ত্রিক একটি দেশে বাস করতে সংগ্রাম, আন্দোলন করেছি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের কথা বললেই প্রধান উপদেষ্টা কষ্ট পান। সংস্কারের দোহাই দিয়ে আর কতো বিলম্ব করবেন? প্রশ্ন করে তিনি।
তিনি বলেন, সংস্কারের নামে যেসব পরিবর্তন চায় কমিশন, তা জাতি মেনে নেবে এমন কেন ভাবে কমিশন? আমাদের বাধ্য হয়ে মানতে হলে তা তো বাকশাল হয়ে যায়।
সংস্কার নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিকতার কমতি নেই, তবে কাজের কাজ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে দেবার কথা বলে পিছিয়ে যাওয়াটা ঠিক করেননি মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন যাবার একটিও কারণ নেই। সংস্কার ও নির্বাচন এক সঙ্গে চলবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। বিচার করবে বিচার বিভাগ।
ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন দেবার একটিও যদি কারণ থাকে, তা সরকারকে জাতির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
এসময় সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন না পেছাতে সরকারের প্রতি অনুরোধও করেন বিএনপির এই নেতা।
