তালেবান শাসন থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গেছেন দেশটির সবচেয়ে বড় পপ তারকা আরিয়ানা সাঈদ। তিনি নিজেই ইনস্টাগ্রামে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
তবে কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাবার খবরটি তিনি একটু বিলম্বেই প্রকাশ্যে এনেছেন। কারণ, সেই তালেবানই। গেলো বৃহস্পতিবার কাবুল ছেড়ে গেলেও তিনি জানিয়েছে চার দিন পর।
.jpg)
ইনস্টাগ্রামে প্রায় আরিয়ানার প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী আছে। সেখানে ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘আমি ভাল আছি এবং বেঁচে আছি। কয়েকটি অনিশ্চিত রাতের পর আমি কাতারের দোহায় পৌঁছেছি এবং ইস্তাম্বুলে ফিরতে আমার শেষ ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছি’।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছরের আরিয়ানা একটি মার্কিন কার্গো বিমানে চড়ে কাবুল বিমানবন্দর থেকে দোহায় উড়ে যান। সেখান থেকে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যান। এখন সেখানেই আছেন তিনি।
আরিয়ানা সাঈদ সম্প্রতি আফগানিস্তানের একটি টেলিভিশনের গানের প্রতিযোগিতা আসরে বিচারকের ভূমিকা পালন করছিলেন।
২০১৫ সালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি স্টেডিয়ামে খোলা আকাশের নিচে পারফর্ম করে দেশটিতে তিনটি উদাহরণ সৃষ্টি করেন। এক, এক নারী হিসাবে গান করে, দুই, কোন হিজাব ছাড়াই পারফর্ম করে এবং তিন, একজন নারী হয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে।
এই তিন উদাহরণই ছিলো তালেবানের প্রথম শাসনামলে নিষিদ্ধ। এই কারণে, আরিয়ানা তালেবানের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন না। ফলে কাবুল পতনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশে ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন এই পপ তারকা।
আরিয়ানা দোহা থেকে তুরস্কে চলে যান নিজের বাসায়। সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্বামী হাসিব সাঈদ, যিনি এক আফগান সঙ্গীত প্রযোজক।
.jpg)
আরিয়ানা ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘বাসায় ফেরার পর আমার মন ও শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অবিশ্বাস্য এক আঘাতের মধ্যে ছিলাম কয়েকটা দিন। তোমাদের সবার সঙ্গে আমার অনেক গল্প ভাগাভাগি করার রয়েছে'’
এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দেশটির অনেক নারী। বিশেষ করে যারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, তারা তাদের প্রতি তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্কার করার আহবান জানাচ্ছেন।
একাত্তর/এআর
