ভয়াবহ আবার ধারণ করেছে মাদকের বিস্তার। রাজধানীর টার্মিনালগুলোকে কেন্দ্র করে চলছে ভয়াবহ মাদকের কারবার। পরিবহণ শ্রমিকদের টার্গেট করে গড়ে উঠেছে এসব মাদক সাম্রাজ্য। কোন বাস টার্মিনালে বিক্রি হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ উপায়ে, কোথাও আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস দখল করে চলছে কারবার। পুলিশের নাকের ডগায় এসব কর্মকাণ্ড চললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেই তেমন কোন তৎপরতা।
বাস টার্মিনালে মাদক ব্যবসার সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে রীতিমতো তোপের মুখে পড়তে হয়েছে টিম একাত্তরকে। রীতিমতো দেওয়া হয় মেরে ফেরার হুমকি। রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ঘটেছে এমন ঘটনা।
প্রতিদিন যেখান থেকে শত শত গাড়ি ছেড়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাদকের ভয়াবহ কারবার চলে টার্মিনালে- এমন তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু অনুসন্ধান। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যাকেই জিজ্ঞেস করা হয় প্রায় সবাই এক বাক্যে দেখিয়ে দেয় কোথায় বিক্রি হচ্ছে মাদক।
তবে টার্মিনালে থাকা সব মানুষরা মাদকের আখড়া চিনলেও টার্মিনালের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সবই অজানা।
এবার সাধারণ মানুষের দেয়া ঠিকানা ধরে এগিয়ে যায় টিম একাত্তর, আখড়ার সামনে গিয়ে রীতিমতো ভড়কে যেতে হয়, ওয়াসার পানির পাম্প দখল করে চলছে কারবার। বাইরে থেকে দিয়ে দেয়া হয়েছে তালা। উপরে আলাদাভাবে লাগানো হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। ভেতরে ইয়াবা হেরোইন আর বাইরে দুই নারীকে বসিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে গাজা।

ছদ্মবেশ ছেড়ে কিছুক্ষণ পর সাংবাদিক পরিচয়ে স্পটে যায় টিম একাত্তর। ক্যামেরা দেখেই দৌড়ে পালায় ভেতরে বিক্রির দায়িত্বে থাকা কারবারিরা। গেটটি এমনভাবে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা যে চাইলেও ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। একাধিক দিন গিয়েও পাওয়া যায়নি এই পাম্পে কর্মরত ওয়াসার কোনো কর্মীকেও।
কিছুক্ষণ পর চত্ত্বরের ভেতরে একজনের অস্তিত্ব টের পাওয়া মাত্র তাকে ডাকতেই সংঘবদ্ধভাবে টিম একাত্তরের ওপর চড়াও হয়ে বসে মাদক কারবারিরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায়, স্থান ত্যাগ করে সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে টিম একাত্তর। মাদক বাণিজ্যের বিষয়ে কতোটা খবর রাখেন তারা, কীভাবে পুলিশের নাকের ডগায় চলছে এমন কর্মকাণ্ড?
এবার গাবতলী বাস টার্মিনালের মাদক কারবারের চিত্র দেখতে অনুসন্ধানে নামে টিম একাত্তর, তবে এখানে কাউন্টার নয় ভ্রাম্যমাণ মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে এ টার্মিনাল। জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিচ্ছে সবাই, সেখানে যেতেই নিজ থেকেই এগিয়ে আসলো একজন।
এমন কারবারিও পাওয়া গেলো যারা পরিবহন সেক্টরে কাজ করার আড়ালে করছে এ ব্যবসা। মাদক রাখছেন নিজ গাড়িতেই। এমন খোলামেলা বাণিজ্য, তারপরেও পুলিশ কি শুধুই দর্শক? মাঝেমধ্যেই এসব আখড়ায় হানাও দেয় তারা। একাত্তর টিমের ওপর আক্রমণের সংবাদে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। সায়েদাবাদের মাদকের ওই আখড়ায় অভিযান চালায় তারা, তবে বেশিরভাগ কারবারিই পালিয়ে যায়।
এবার ওয়াসার সেই পাম্পের ভেতরে ঢোকার পালা। ভেতরে কারা থাকে, চাবি না পাওয়ায় গেট টপকে প্রথমে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। পরে অবশ্য তালা ভেঙ্গে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রীতিমত ঘর তুলে ভেতরে বসবাস করছে মানুষ, অথচ মেইনগেটে তালা দেয়া থাকে সবসময়। ঘরে তল্লাশি চালাতেই একে একে শুধু মাদক নয়, বের হয়ে আসে নানা দেশিয় অস্ত্রও।
দেখা মেলে টিম একাত্তরকে দেখে প্রথমে দৌড় দেওয়া কালো গেঞ্জি পড়া সেই ছেলেটিরও। যারাই পরে সংঘবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করেছিলো একাত্তর টিমের ওপর। অভিযান শেষে এডিসি জানান, বাস টার্মিনাল ঘিরে এই মাদক সিন্ডিকেটের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। টার্মিনালগুলোতে এসব মাদকের কারবার সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র রোববার