ভয়াবহ এই চোটে মাস ছয়েকের জন্য ফুটবল থেকে ছিটকে গেছেন বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড জামাল মুসিয়ালা। আর তাকে ট্যাকেল করা সেই পিএসজি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমাকে ধুয়ে দিচ্ছেন সবাই। সবচেয়ে বেশি কথার আক্রমণটা আসছে তার বায়ার্ন সতীর্থদের পক্ষ থেকেই। এক্ষেত্রে অবশ্য দোনারুমার পক্ষে কথা বলেছেন ক্লাব বিশ্বকাপে তার পরবর্তী প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া।
প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন, অ্যাকশন রিপ্লেতে পরিষ্কার, কী ভয়াবহভাবে আঘাত পেয়েছিলেন জামাল মুসিয়ালা। তাই দেখে জিয়ানলুইজি দোনারুমাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল এক ঝলকের জন্য। তারপরেই ব্রডকাস্টাররা সেদিক থেকে ক্যামেরা সরিয়ে নিলেন, এক্সপ্রেশন বা ইন্টারেস্ট কোনোটাই আর দেখা গেল না পর্দায়, কেবল জামালের পড়ে থাকার ছবি, মুখ ঢেকে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকার ফুটেজ।

পিএসজি গোলকিপার দোনারুমা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন, চোখের জল ফেলেছেন, কাছে গিয়ে চেয়েছেন ক্ষমা। ম্যাচ শেষে সোশাল হ্যান্ডেলে কুইক রিকভারির জন্য করেছেন প্রার্থনা। তাতেও বাঁচতে পারেননি সমালোচনার তীক্ষ্ণ বান থেকে। সেই আক্রমণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বায়ার্ন মিউনিখ তারকারাই।
সবচেয়ে চাঁছাছোলা কথা বলেছেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবরেল। তিনি বলছেন, দোনারুমা কাজটা ইচ্ছেকৃত করেছেন তেমনটা বলা যাচ্ছে না, তবে এটা তো সত্যি সে সতর্কও ছিল না। এমন গতিতে ছুটে আসা কারো ওপরে একশ কেজি ওজন নিয়ে পড়লে, বড় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। হয়েছেও তাই।

বায়ার্নের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি সরাসরি পিএসজি কিপারকে বলেননি কিছুই, কেবল জানিয়েছেন, রাগে তার শরীর জ্বলছে। সেটা তার দল বায়ার্ন হেরে ক্লাব ওয়ার্ল্ডকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে বলে নয়, বরং জামালের মতো একজন ফুটবল ভালোবাসা মানুষের এমন পরিণতি দেখে। মাত্র কদিন আগেই ইনজুরি থেকে ফিরেছিলেন, আবার তাকে চলে যেতে হলো মাঠের বাইরে।
একই দলের গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার সমালোচনা করেছেন অনেকটা একই ভাষায়। সেই সাথে কমন স্পেসে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন ম্যাচ সিচুয়েশন। কান্নায় ভেঙে পড়া দোনারুমাকে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, সে যেন জামালের কাছে গিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে। কারণ তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। একটা সরিই হয়তো কিছুটা হলেও তাকে সম্মানিত করবে।
সেই দুঃখপ্রকাশ অবশ্য দোনারুমা অনলাইন আর অফলাইনে নানাভাবে করেছেন। তাতেও সমালোচনা না থামলেও তিনি পাশে পাচ্ছেন কোচ লুইস এনরিকেকে। ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না, আর পিএসজি সহিংস দল নয় এবন ইচ্ছাকৃত ফাউল করে না।
প্যারিসিয়ানরা বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করে চলে যায় ক্লাব ওয়ার্ল্ডকাপের শেষ আটে। সেখানে তাদের দেখা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সাথে। সেই দলের গোলকিপারও রয়েছেন দোনারুমার পক্ষেই। কোর্তোয়া বলেছেন, গোলকিপার বলকে চেজ করবে সেটাই স্বাভাবিক, প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডের বুট মুখে কিংবা বুকে এসে লাগতে পারে, সেই ঝুঁকি নিয়েই তারা কাজ করে, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকলেও এমন কিছু হতে পারে যা খেলারই অংশ।
মধ্যরাতে নারী ফুটবলারদের জমকালো সংবর্ধনা