ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে জিতেছে আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠে শেষ নিজের শেষ ম্যাচ খেলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি। বলেন, দেশের সমর্থকদের সামনে এভাবে খেলা শেষ করা তার সবসময়ের স্বপ্ন ছিলো।
এদিন মেসি দুটি গোল করেন এবং লাউতারো মার্তিনেজ আরেকটি গোল যোগ করেন। আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার দেশে তার শেষ অফিসিয়াল ম্যাচে দারুণভাবে বিদায় নেন। আগামী গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে খেলা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে মেসি বলেন, ‘দেখা হবে।’
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, এই মাঠে আমি অনেক কিছু উপভোগ করেছি, অনেক আবেগ অনুভব করেছি। আমাদের দেশের মানুষের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় খেলা সবসময় আনন্দের। আমরা বহু বছর ধরে ম্যাচের পর ম্যাচ উপভোগ করছি। এভাবে এখানে শেষ করতে পেরে আমি খুব খুশি। এটাই আমার সবসময়ের স্বপ্ন ছিল।

তিনি আরও বলেন, বার্সেলোনায় বহু বছর ধরে আমি সমর্থকদের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার স্বপ্ন ছিলো আমার দেশের মানুষের কাছেও এই ভালোবাসা পাওয়া। অনেক বছর ধরে অনেক কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমি শুধু ভালো জিনিসগুলো মনে রাখতে চাই। আমরা চেষ্টা করেছি, কখনও সফল হয়নি, কিন্তু পরে আমরা সাফল্য পেয়েছি। এই দলের সঙ্গে এবং আগের দলের সঙ্গে যা কিছু অর্জন করেছি, সবই সুন্দর ছিলো। আজ ছিল এখানে পয়েন্টের জন্য আমার শেষ ম্যাচ।
আর্জেন্টিনা ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে কনমেবলের শীর্ষে রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। মেসি জানান, বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা তার আছে, তবে আগামী মাসগুলোতে তিনি তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইন্টার মায়ামির এই তারকা বলেন, আগেও বলেছি, বয়সের কারণে আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলা সম্ভবত সম্ভব নয়। তবে আমরা প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, তাই আমি উত্তেজিত এবং অনুপ্রাণিত। আমি সবসময় বলি, দিন দিন এগোই, নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিই। আমি ভালো থাকতে চাই, নিজের সঙ্গে সৎ থাকতে চাই। যখন ভালো লাগে, আমি উপভোগ করি। কিন্তু যখন ভালো লাগে না, তখন সত্যি বলতে, আমি সেখানে থাকতে চাই না। তাই দেখা যাবে। আমি বিশ্বকাপ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

তিনি আরও বলেন, আমি এই মৌসুম শেষ করবো, তারপর প্রি-সিজন হবে। এখনও ছয় মাস বাকি। তখন দেখবো আমার শরীর কেমন আছে। আশা করি, ২০২৬ সালে ভালো প্রি-সিজন হবে এবং এমএলএস মৌসুম ভালোভাবে শেষ করবো। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো।
আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় মেসি ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, ২০১৪ এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়ে কাতারে সর্বশেষ ট্রফি জিতেছেন।
আর্জেন্টিনা ফিফা উইন্ডোর শেষ ম্যাচে গুয়ায়াকিলে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে। মেসি জানিয়েছেন, তিনি দলের শেষ বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলবেন না।
