চোখের আলো না থাকলেও মনের আলোতে আলোকিত মানুষ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন গফুর মল্লিক। শৈশব থেকে শত ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে অসম্ভবকে সম্ভব করে বৃদ্ধ বয়সেও হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয়! জন্মান্ধের আলোয় আলোকিত গফুর মল্লিকের অদম্য চেষ্টায় পরাজিত হয়েছে প্রতিবন্ধিতা।
যদিও তার ছোটবেলায় প্রতিবেশীসহ অনেকেই জন্মান্ধ আব্দুল গফুর মল্লিকের বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলো ছেলেকে কোরআন শেখাতে। দুই সিপারা কোরআন মুখস্থ করে হাত পাতলে ভাতের অভাব হয় না। শিশুমনেই সংকল্প করেন কখনোই হাত পেতে ভিক্ষা করে জীবন চালাবেন না। নিজের সেই সিদ্ধান্ত অটল থেকে গফুর মল্লিক নিজেকে গড়ে তুলেছেন অন্যরকম এক সাহসী উদ্যোক্তা।
জীবনযোদ্ধা গফুর মল্লিকের সেই পথ চলা দেশ-বিদেশের কোটি কোটি কাছে তুলে ধরেছিলেন যিনি, তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, নাম মুন্সী এনায়েত। সেই মুন্সী এনায়েতের বয়ানে একাত্তরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি জন্মান্ধ আব্দুল গফুর মল্লিকের অদম্য সাহসী আর মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার গল্পের বিস্তারিত।

আব্দুল গফুর মল্লিক যৌবনে অন্যের বাড়িতে নারকেল গাছে উঠে নারকেল নামিয়ে দিয়ে যা ভাগে পেতেন তাই দিয়েই নাড়ু বানিয়ে বিক্রি করতেন। ৫ বছর আগেও এই কাজ করতেন তিনি। ধীরে ধীরে শক্তি কমে আসায় গাছে ওঠা বন্ধ করলেও নাড়ু বিক্রি করে যাচ্ছিলেন।
জন্মান্ধ ও নিঃসন্তান আব্দুল গফুর মল্লিক, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ট্রেনে ট্রেনে নারকেলের নাড়ু ও বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এসময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুন্সী এনায়েতের প্রামাণ্যচিত্রে ফুটে উঠে তার সংগ্রামের কথা।
খুব ভোরে ঘুম থেকে খাটের নিচ থেকে শিশুদের মতো নারকেল বের করে আনেন। এরপর নিজ হাতে খোসা ছাড়ান এবং নারকেল ভাঙেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও কারো সাহায্য নেন না তিনি।
এরপর নাড়ু বানিয়ে স্থানীয় খানখানাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে বিক্রি করেন তিনি। চোখে না দেখা মানুষটি অনেকবার পড়ে গিয়েছেন ট্রেনে উঠতে গিয়ে ও ভেতরে মালামাল নিয়ে হাঁটার সময়।
তার এমন জীবন সংগ্রামের চিত্র উঠে আসে মুন্সী এনায়েতের প্রামাণ্যচিত্রে। সেই প্রামাণ্যচিত্রে যুক্ত করা তার মোবাইল ব্যাংকিং নাম্বারে টাকা পাঠান অসংখ্য মানুষ।

মুন্সী এনায়েতের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি ৪০ মিলিয়ন মানুষ দেখেছেন। এর পাশাপাশি অনেকেই ডাউনলোড দিয়ে আপলোড করলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর কারো না কারো পেজে ভাইরাল হলেই অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়ান। তারপর থেকে আর ট্রেনে চড়তে হয়নি আব্দুল গফুর মল্লিকের।
সম্প্রতি একটি পত্রিকা তাকে নিয়ে নিউজের জন্য আবারও ট্রেনে নাড়ু বিক্রির চিত্রায়ণ করেন আব্দুল গফুর মল্লিক। সেটিও মুহূর্তে ভাইরাল হয় এবং তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আসে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) গফুর মল্লিকের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলবেন এবং নগদ অর্থ সহায়তা দিবেন।
গলাচিপায় মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক