দিল্লির পর কলকাতা মিশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের মিছিল

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতন এবং সম্প্রতি ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহর। মঙ্গলবার 'বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ'-এর ব্যানারে আয়োজিত একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পরনে ছিলো গেরুয়া পোশাক ও পতাকা।  

'হিন্দু হুঙ্কার পদযাত্রা' শিরোনামের এই বিক্ষোভ মিছিলটি দুপুরে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু হয়। হাতে গেরুয়া পতাকা এবং ফেস্টুন নিয়ে কয়েকশ প্রতিবাদকারী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি যখন পার্ক সার্কাস সংলগ্ন বেকবাগান এলাকায় পৌঁছায়, তখন পুলিশ বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়।

মিছিল থেকে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে লাগাতার স্লোগান দিতে থাকেন। ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা চাই’ এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তোলেন তারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্ক স্ট্রিট এবং উপ-হাইকমিশন সংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। 

বেকবাগান এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নেন, যার ফলে মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোনো বিক্ষোভকারীকে উপ-হাইকমিশনের কাছাকাছি যেতে দেয়া হয়নি।

গত কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা এই প্রতিবাদের আগুনে ঘি ঢেলেছে। দিল্লির পর মঙ্গলবার কলকাতার এই বড় আকারের বিক্ষোভ দুই দেশের বর্তমান সংবেদনশীল সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর চলমান হামলা এবং সম্প্রতি এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ভারতের জম্মু ও রাজৌরিতে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

জম্মু ও রাজৌরিতে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ

জম্মুর বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনজীবীরা বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হন। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল কে কোতোয়াল গণমাধ্যমের সামনে বলেন, বাংলাদেশে বারবার হিন্দুদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই বার্তা দিতে চাই যে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নৃশংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পুরো দেশ তাদের পাশে আছে।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কোতোয়াল সমস্যা সমাধানের জন্য দুটি প্রস্তাব পেশ করেন- 

১. বাংলাদেশে অবস্থানরত হিন্দুদের ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা। ২. অথবা, প্রতিবেশী দেশে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া।

বিক্ষোভ চলাকালীন আইনজীবীরা আরও একটি সংবেদনশীল দাবি উত্থাপন করেন। তারা জম্মু অঞ্চলে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অভিবাসীদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জম্মুর পাশাপাশি রাজৌরি জেলাতেও স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ময়মনসিংহের দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জীবন ও ধর্মীয় স্থানগুলো আজ চরম হুমকির মুখে।

এআরএস
চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হয়েছেন স্বজনরা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদে‌শির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।
জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।
বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখার ঘোষণার পর এবার বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের বুক চিরে কান্না নামাতে তৈরি বুয়েনস আইরেসের আইকনিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম! আগামী ৬ অক্টোবর...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর