টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার যে আবেদন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) করেছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি। এক বোর্ড সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক বিবৃতির মাধ্যমে তাদের অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করেছে।
আইসিসি জানিয়েছে, বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছে। আইসিসি’র মুখপাত্রের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভেন্যুভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাংলাদেশের সাথে শেয়ার করা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানান, আইসিসি’র স্বাধীন নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য ভারতে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আয়োজক দেশের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের শর্তাবলী ২০টি অংশগ্রহণকারী দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।
আইসিসি তাদের বিবৃতিতে বিসিবির অনড় অবস্থানের সমালোচনা করেছে। মুখপাত্র বলেন, বিসিবি একটি ‘বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন’ ঘটনাকে বিশ্বকাপের সাথে যুক্ত করেছে। একজন খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত একটি বিষয়কে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে বলে আইসিসি মনে করে, যার সাথে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার কোনো যোগসূত্র নেই।
আইসিসি পরিষ্কার জানিয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট বড় ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। এর পেছনে তারা বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। এক, লজিস্টিক জটিলতা- সূচি পরিবর্তন করলে অন্য দল এবং বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে।
দ্বিতীয়ত নিরপেক্ষতা রক্ষা- একটি দেশের জন্য নিয়ম শিথিল করলে তা আইসিসি-র নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আইসিসি জানিয়েছে, বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় এবং অভিন্ন মানদণ্ড বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা । যেহেতু নিরাপত্তা প্রতিবেদনে কোনো বড় ঝুঁকির সংকেত নেই, তাই বাংলাদেশের দাবি মেনে ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
এখন দেখার বিষয়, আইসিসির এই কঠোর অবস্থানের পর বিসিবি এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনে কি না। অন্যথায়, আসর থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার শঙ্কা আরও প্রবল হলো।
