জেনেভায় নতুন দফার আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত রাভানচি জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যত দ্রুত সম্ভব একটি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে, একই সাথে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে (এনপিআর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

রাভানচি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনার একমাত্র বিষয়বস্তু হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। তিনি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সব পক্ষের মধ্যে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তেহরানের সদিচ্ছার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও একই রকম ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের 'আর্মাডা' বা বিশাল নৌবহর মোতায়েন এবং সম্ভাব্য সীমিত হামলার গুঞ্জন নিয়ে রাভানচি বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা বা শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি একে একটি 'বিপজ্জনক জুয়া' হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন চালানো হয়, তবে ইরান তার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী পাল্টা জবাব দেবে। এক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর (যেমন- সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত) সাথে ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর কোনো উদ্দেশ্য তেহরানের নেই।

সাক্ষাৎকারে ইরানে গত জানুয়ারির বিক্ষোভের পর নিরাপত্তা বাহিনীর ধরপাকড় এবং স্কুলে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোকে 'মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাভানচি। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং বর্তমানে ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের পরমাণু ইস্যুটির কোনো সামরিক সমাধান নেই। ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সৈন্য পাঠিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধংদেহী মনোভাব বাদ দিয়ে কূটনীতিতে মনোযোগ দেওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক। তেহরান শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে হাঁটতে চায় এবং জেনেভা বৈঠককে সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
মজিদ তাখত রাভানচির এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরান আলোচনার টেবিলে নমনীয় হলেও সামরিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। জেনেভায় শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
