ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশেষায়িত স্থল অভিযান বা ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মার্কিন সেনাকে জড়ো করা হয়েছে। তবে এই অভিযান প্রথাগত বড় আকারের স্থল যুদ্ধের মতো হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এর বদলে ইরানে স্পেশাল ফোর্স এবং নিয়মিত পদাতিক বাহিনীর মাধ্যমে ঝটিকা অভিযান বা ‘রেইড’ চালানো হতে পারে।
কর্মকর্তারা একে যুদ্ধের ‘নতুন ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা মার্কিন সেনাদের জন্য যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ, এই অভিযানে সেনারা ড্রোন, মিসাইল ও সরাসরি বন্দুকযুদ্ধের মুখে পড়তে পারেন।
সম্ভাব্য স্থল হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত ‘খার্গ দ্বীপ’কে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, ইরান তাদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপ থেকেই রপ্তানি করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এই কৌশলগত দ্বীপটি মার্কিন বাহিনীর টার্গেট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা যাতে ‘কমান্ডার ইন চিফ’ বা প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্থল হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ইরানজুড়ে যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং এর মধ্যেই মার্কিন মেরিন সেনাদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজারো সদস্যকে ওই অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা নিহত