ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই দেশের মানুষ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং বর্তমান সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, ইশতেহারের প্রতিটি দফা পূরণে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সবকিছু বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত সময়ে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে পাচার হওয়া অর্থ এ দেশের জনগণের। তাদের সম্পদ ফিরিয়ে এনে জনকল্যাণে ব্যয় করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। এজন্য যা যা করা দরকার, সব করা হবে। যারা এজন্য দায়ি, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্নীতির ‘টুটি চেপে ধরার’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে সরকার।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলো অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কার্ডগুলোর বিপরীতে টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তাই বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা নেই। বরং এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সচল ও শক্তিশালী হবে।
জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানুষকে স্বাবলম্বী করাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সংসদ নেতা বলেন, বিএনপি বরাবরই মনে করে জনগণই ক্ষমতার উৎস। বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন আছে বলেই তারা নির্বাচনে এর প্রতিফলন দেখিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেকেই ‘অদ্ভুত’ সব আশ্বাস দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি, কিন্তু বর্তমান সরকার প্রতিটি কথা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এক ভয়াবহ ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে তার সরকার যাত্রা শুরু করেছে। তবে দুর্নীতি বন্ধ করে এবং মানুষের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। অধিবেশনে তিনি দ্রুতই ‘কৃষক কার্ড’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনাও সংসদকে অবহিত করেন।
