এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী 'রুলস অব বিজনেস' অনুযায়ী তাকে এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. হায়দার বিশ্বব্যাংকে সিনিয়র নিউট্রিশন ও হেলথ স্পেশালিস্ট হিসেবে টানা ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁর কর্মজীবনে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, পুষ্টি নীতি প্রণয়ন এবং শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা—বিশেষ করে স্টান্টিং হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে দেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন, তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যভিত্তিক প্রচারণা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তিনি সমন্বয় ও কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকলেও তাঁর মূল শক্তি স্বাস্থ্য ও জননীতি বিষয়ক দক্ষতা। নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, তার পেছনেও তাঁর গবেষণাভিত্তিক অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে উপযুক্ত করে তুলেছে।
নিয়োগের পর স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, সেবার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ একজন বিশেষজ্ঞকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া সরকারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তাঁর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দেশের স্বাস্থ্যখাত নতুন গতি পাবে এবং জনসেবার মান আরও উন্নত হবে, এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: গোলাম পরওয়ার
১৪টি বোয়িং কেনার পরিকল্পনা, এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বিমান প্রতিমন্ত্রী