জনবল অর্ধেক, উটকো ফোন: প্রকল্প শেষে অনিশ্চয়তার ৩৩৩

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি তথ্য ও সেবা পাওয়ার প্রধান ভরসা জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ এখন গভীর সঙ্কটে। একদিকে তীব্র জনবল সঙ্কট, অন্যদিকে অপ্রাসঙ্গিক বা ‘উটকো’ ফোনের বিড়ম্বনায় বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি সেবা কার্যক্রম। চালুর সময় ৬৫ জন কর্মী থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩০ জন নিয়ে তিন শিফটে ধুঁকছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

সম্প্রতি সচিবালয় ও ৩৩৩-এর কনটাক্ট সেন্টার (কল সেন্টার) ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর পরিসংখ্যান (এপ্রিল ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৬) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ১২ কোটি ছয় লাখ কলের মধ্যে রিসিভ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ। এর মধ্যে বড়ো একটি অংশই অপ্রয়োজনীয় কল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোট কলের ২১ শতাংশই কৌতুকপূর্ণ বা প্রাঙ্ক কল এবং ১৩ শতাংশ নীরব কল। 

সেবাপ্রদানকারীরা জানান, সাহায্যপ্রার্থীদের ভিড়ে অনেক সময় প্রেমের আবদার, মোবাইল রিচার্জ চাওয়া কিংবা বান্ধবীর বিয়ে ঠেকানোর মতো বিচিত্র সব উটকো ফোন কল আসে, যা প্রকৃত অভাবী মানুষকে অপেক্ষমাণ রাখছে।

সিনেসিস আইটি পিএলসির চীফ সলিউশন অফিসার আমিনুল বারী শুভ্র জানালেন বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুযায়ী একজন কল টেকার আট ঘণ্টায় ১০০ বেশি কল রিসিভ করা কঠিন হলেও বর্তমানে ৩৩৩-এর একেকজন কর্মীকে ২০০-এর বেশি কল সামলাতে হচ্ছে।যা অমানবিক। এর ফলে সব সাহায্য প্রার্থীকে সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। শুরুতে ৬৫ জন কল টেকার থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ জনে। এতে সেবার মান ও গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখার আহবান তাদের।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল হিসেবে ৩৩৩-এর ৮০ শতাংশ কলই আসে গ্রাম থেকে। কৃষক, জেলে ও দিনমজুররা সরাসরি বাটন ফোনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য, বাল্যবিয়ে রোধ এবং দুর্যোগের পূর্বাভাস পান। তবে শহরের মানুষের কাছে এটি এখনও ততোটা পরিচিতি পায়নি।

‘তথ্য ও সেবা সবসময়’ কোভিড-১৯ মহামারির সময় টেলিমেডিসিন ও স্বাস্থ্যসেবা এবং ২০২৪ বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ত্রিপল থ্রি হটলাইন। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময়ও তাদের ভূমিকা ছিলো বেশ। আর প্রতিদিনই বাড়ছে কলের সংখ্যা।

এটুআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি দুই দফা মেয়াদ বাড়ার পর আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। লোকবল কমা এবং প্রকল্প সমাপ্তির শঙ্কায় কর্মীদের মধ্যেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। 

এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুর রফিক বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেবা বন্ধ হবে না। কার্যক্রম চলবে তিনিও স্বীকার করেন লোকবল বাড়ানো প্রয়োজন। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ৩৩৩-এর মতো প্ল্যাটফর্মকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং প্রাঙ্ক কলের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

একাত্তর/এসি
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি নাগরিকদের ইংরেজি ভাষায় সেবা দেওয়া শুরু করেছে। এখন মোবাইল কিংবা ল্যান্ডফোন থেকে ফোন করে এই সেবা নিতে পারবেন বিদেশি নাগরিকরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে ২৮ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।  বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর চারটার দিকে বিএসএফের...
ঘোষিত হলো ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ২৮টি ক্যাটেগরিতে মোট ৩২ জন বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের...
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই যুক্তিতর্ক...
হজযাত্রীদের লাগেজ কাটার ঘটনাটি বাংলাদেশ অংশে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে যে প্রচার...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর