প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করার কারণেই গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনরায়ের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি মেধা, সততা ও দক্ষতাকে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের ‘প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি সেবা পেতে জনগণকে যেন কোনো ধরনের হয়রানিতে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে যেন কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কেউ পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।
বন্যা ও খরার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা। এর পাশাপাশি আমরা ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা রক্ষা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠনে মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য এবং দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহবান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন হবে এবং দুর্নীতিকে তার সরকার কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের বিশেষ তদারকির নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সন্ধ্যা সাতটার পর বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে যেন বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয়, তা ডিসিদের নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এরপর মাঠ প্রশাসনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এবারের সম্মেলনে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নিয়েছেন। এই সম্মেলন আগামী ছয় মে পর্যন্ত চলবে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
