আফগানিস্তানের নতুন সরকার গঠন নিয়ে তালেবান নেতাদের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন সংগঠনটির এক সিনিয়র নেতা। রাজধানী কাবুলের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে শীর্ষ নেতা মোল্লাহ আবদুল গনি বেরাদার ও মন্ত্রীপরিষদের এক সদস্যের মধ্যে এ বিরোধ দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিবিসিকে এক সূত্র জানিয়েছে, তালেবান সরকারের শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা খলিল-উর-রহমান হাক্কানির সাথে বেরাদারের তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। একই সময় নিজেদের মধ্যে তর্কে লিপ্ত হন তাদের সমর্থকরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠনতন্ত্র নিয়ে বেরাদারের অসন্তুষ্টি থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয়ের কৃতিত্ব আসলে কার, তা নিয়েই দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছেন নেতারা।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বেরাদারের মতো ব্যক্তিদের কূটনৈতিক কলাকৌশলের ফলেই তালেবান বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে তার বিশ্বাস। অন্যদিকে, হাক্কানি ও তার অনুসারীদের মত, যুদ্ধের মাধ্যমেই জয়লাভ করেছে তালেবান।
গত সপ্তাহেও এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন কাতারে অবস্থানরত এক সিনিয়র তালেবান সদস্য।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বোমা হামলার দায়ে ৫৩ বছরের কারাদণ্ড
বেশ কিছুদিন ধরে জনসম্মুখে বেরাদারের কোন উপস্থিতি না থাকায় তার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছিল। তবে, এসব সংবাদকে নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে তালেবান সদস্যরা। তার জীবিত থাকার বিষয়ে কোন সন্দেহ না থাকার কথা বললেও, তিনি কোথায় আছেন বা কি করছেন তা নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেনি তালেবান। অনেকেই ধারণা করছেন, কাবুল ছেড়ে কান্দাহারে গিয়েছেন বেরাদার।
এক অডিও বার্তায় বেরাদার জানিয়েছেন, ভ্রমণের কাজে কাবুলের বাইরে আছেন তিনি। তবে, সবকিছু ঠিক আছে এ ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মোল্লাহ আবদুল গনি বেরাদার কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা প্রথম তালেবান নেতা। ২০২০ সালে তিনি টেলিফোনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে যোগাযোগ করেন।
এদিকে, আফগানিস্তানে পশ্চিমা বাহিনীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর জন্য দায়ী করা হয় হাক্কানি নেটওয়ার্ককে।
একাত্তর/এসজে
