নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। এই পদ্ধতিতে লেনদেনে গ্রাহকের প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ খরচ হবে সাড়ে ১১ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, সর্বজনীন এই ব্যবস্থার ফলে আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব হবে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে লেনদেনে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি কমবে দুর্নীতি এবং বাড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়। ‘বাংলা কিউআর’ পুরোপুরি সচল হলে টাকা ছাপানো ও এর ব্যবস্থাপনা বাবদ রাষ্ট্রের বছরে যে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, তার সিংহভাগ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে দোকানে দোকানে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। একটিমাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে মুহূর্তেই টাকা চলে যাবে। অর্থাৎ, একজন ব্যবসায়ী একটিমাত্র কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক বা বিকাশ-রকেটের মতো এমএফএস গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন।

সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, শুধু বড়ো শপিংমল আর সুপারশপগুলোতেই নয়, সবাই এগিয়ে এলে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি আর মুদি দোকানেও পৌঁছে যাবে বাংলা কিউআর কোড। এর ফলে একসময় মানিব্যাগ বা ছেঁড়া-ফাটা কাগুজে নোটের ব্যবহার অতীত হয়ে যাবে।
এর আগে গত এক এপ্রিল সব ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছিলো, ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যবসায়িক স্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ বসাতে হবে। এক জুলাই থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে নিজস্ব কোড বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
দেশে আরও তিন উপজেলা ও এক নতুন থানা