কীভাবে একটি বাংলাদেশি জাতির জন্ম হয়েছে, ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গোটা জাতি যখন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়েছিলো, তখন মেজর জিয়াউর রহমান সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের ওপর ভর করে ‘উই রিভোল্ট’ বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সংগ্রাম হয়েছিলো এবং পরবর্তীতে সততা ও সাহসের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিলো। মূলত জিয়াউর রহমানই আমাদের জাতির দীর্ঘদিনের পরিচয় সঙ্কট দূর করেছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশকে সুসংগঠিত করতে দেশের নতুন অভিভাবক হিসেবে জিয়াউর রহমানের আদর্শের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ তার দেখানো পথেই এগিয়ে যাবে।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্কের নীতি তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতি তৈরি করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বর্তমান সরকারও সেই নীতি অনুসরন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনা ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, দেশের সব সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ ধারণ করতে হবে, যেখানে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত থাকবে। ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থেই এই জাতীয়তাবাদকে ধারণ করা জরুরি। এর বাইরে গিয়ে কেউ যদি অন্য কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করায়, তবে ধরে নিতে হবে তারা অন্য কোনো ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এখন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সবাই বলতে পারে আমরা বাংলাদেশি। বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা বন্ধুত্ব বজায় রাখবো। এর বাইরে কোনো ঠিকানা নেই আমাদের। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দর্শন হলো- কোনো বিশেষ ভাষা, সংস্কৃতি ধারণ নয়। এর আলোকে আমরা ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে পারবো। এর বাইরে ভাবলে হয় নির্বোধ, নয়তো অন্য কোনো এজেন্ডার বাস্তবায়ন করা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে সবাই আমাদের বন্ধু এর বাইরে আমাদের কোনো ঠিকানা নেই, কোনো স্বার্থ নেই। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ধারণ করলে ভৌগলিক অখন্ডতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ সকল সংস্কৃতি, ধর্ম, বর্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই সকল জনগণ ও তা গ্রহণ করেছে।
