বন্যা-ভূমিধসের ঝুঁকি জেনেও কেন কৈলাসে যান হাজারো তীর্থযাত্রী?

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ এএম

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক পর্যটক-তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে—বন্যাকবলিত ও দুর্গম ওই এলাকায় এই সময় এত পর্যটক-তীর্থযাত্রী কেন ছিলেন?

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা। বন্যায় কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরে যাওয়ার অন্যতম প্রধান সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু তীর্থযাত্রী হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজদের বেশিরভাগই তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদেও ছিলেন বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।

বন্যাকবলিত এই এলাকায় রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ হ্রদ—তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর এবং নেপালের গোসাইকুণ্ড। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুটিই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতিবছর হাজারো মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক আকর্ষণে এসব এলাকায় যান।

বিশেষ করে বছরের এই সময়ে ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণের প্রবণতা বেশি থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৈলাসকে ভগবান শিবের আবাসস্থল এবং মানস সরোবরকে পবিত্র হ্রদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একইভাবে বৌদ্ধ, জৈন ও তিব্বতের বোন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এ অঞ্চলের রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব।

তবে এই তীর্থযাত্রা মোটেও সহজ নয়। তীর্থযাত্রীদের সাড়ে চার হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা কম। এর সঙ্গে রয়েছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন, ভূমিধস এবং দুর্গম পাহাড়ি পথের ঝুঁকি।

শুধু শারীরিক ঝুঁকিই নয়, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যেতে প্রয়োজন হয় নানা সরকারি অনুমতি ও ভিসার। ঝুঁকি বিবেচনায় ভারত সরকার নির্দিষ্ট নিয়ম ও কোটার মাধ্যমে এই যাত্রা পরিচালনা করে। এতসব বাধা ও ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পুণ্যের আশায় এই কঠিন পথ পাড়ি দেন।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা প্রায় দুই দশক বন্ধ ছিল। ১৯৮১ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে চুক্তির পর তা আবার চালু হয়। পরে করোনা মহামারির সময়ও বন্ধ হয়ে যায় এই তীর্থযাত্রা। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর ২০২৫ সালে আবার শুরু হয় যাত্রাটি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পথ—বারবারই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার ঝুঁকি সামনে এনেছে। তারপরও ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক শান্তির সন্ধানে প্রতিবছর হাজারো মানুষ পাড়ি জমান এই দুর্গম তীর্থপথে।

আর নেপালের এবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস সেই ঝুঁকির ভয়াবহতাই নতুন করে সামনে এনেছে।

আরবিএস
প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর এবার চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী চীনের জাইরং কাউন্টিতে তৈরি হয়েছে মারাত্মক দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়ের শঙ্কা। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, টানা তিন দিনের সম্ভাব্য...
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা বিপর্যয়কর আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ধ্বংসলীলার পরিমাণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।...
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আট শতাধিক পর্যটক-তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর আরও এক প্রলয়ংকরী দ্বিতীয় প্লাবনের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার...
প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর এবার চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী চীনের জাইরং কাউন্টিতে তৈরি হয়েছে মারাত্মক দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়ের শঙ্কা। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, টানা তিন দিনের সম্ভাব্য...
সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সে জন্য বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা বিপর্যয়কর আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ধ্বংসলীলার পরিমাণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।...
জুলাই আন্দোলন চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর