আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের স্ত্রী, দুই ছেলে এবং মেয়ের অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে তাদের নামে-বেনামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্র জানায়, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে:
- ফাতেমা সেলিম (স্ত্রী): বৈধ আয়ের চেয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে।
- শেখ ফজলে ফাহিম (জ্যেষ্ঠ পুত্র): বৈধ আয়ের চেয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার বেশি সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- শেখ ফজলে নাঈম (কনিষ্ঠ পুত্র): আয়ের নির্ধারিত উৎসের বাইরে সবচেয়ে বেশি—১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।
- শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া (কন্যা): বৈধ আয়ের উৎসবিহীন ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছে।
এসব গোপন সম্পদ ও অর্জিত সম্পদের সঠিকতা নিরূপণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী উল্লিখিত চারজনের বিরুদ্ধেই আলাদাভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বর্তমান ঠিকানায় না পাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ লটকিয়ে এই আদেশ জারি হবে। শেখ সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হকের নেতৃত্বে, যার সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের
হাম উপসর্গে আরও ছয় মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি