অধিকৃত পশ্চিম তীরে (ওয়েস্ট ব্যাংক) যখন ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই মারাত্মক অর্থসংকটে পড়ে নিজেদের খাদ্যসহায়তা অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। মঙ্গলবার জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানায়, চলতি মাস থেকেই সহায়তা কাটছাঁটের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
সংস্থাটি এতদিন পশ্চিম তীরের গ্রামীণ ও দক্ষিণ অঞ্চলের- যেমন হেবরনের মতো বিভিন্ন গ্রামের প্রায় চার লাখ ফিলিস্তিনিকে খাদ্য, ভাউচার ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কেবল দুই লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএফপির ফিলিস্তিন বিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর শন হিউজ বলেন, চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং গণবাস্তুচ্যুতির কারণে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে যখন সাহায্য বাড়ানো উচিত ছিল, তখন বাধ্য হয়ে আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন কেটে দিতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান পশ্চিমা দাতা দেশগুলো অভ্যন্তরীণ খরচ ও প্রতিরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় গত বছর থেকে বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে, যা এই অর্থসংকটের মূল কারণ।

ডব্লিউএফপির কর্মকর্তা আরও জানান, অতীতে পশ্চিম তীরকে খাদ্য সংকটের বদলে মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে চলাচলের স্বাধীনতা না থাকা ও কর্মসংস্থান হারানোর ফলে ফিলিস্তিনিরা চরম অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে পড়েছেন এবং পরিবারকে খাদ্য দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন।
জাতিসংঘ এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। যদিও ইসরাইল এটিকে দখলের বদলে বিরোধপূর্ণ এলাকা বলে দাবি করে থাকে।
এদিকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-সহ অন্যান্য মানবিক সংস্থাও একইভাবে মারাত্মক আর্থিক সংকটে ভুগছে, যার ফলে ডব্লিউএফপির বাদ পড়া সুবিধাভোগীদের বিকল্প কোনো সহায়তার সুযোগও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
