লা লিগায় হোসে মরিনহোর জয়রথ থামিয়ে দিল রিয়াল বেতিস। কিলিয়ান এমবাপের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়ে বেতিসের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় দফায় মাদ্রিদের কোচের চেয়ারে বসে প্রথম তিন ম্যাচে টানা জয় পেলেও, কার্তুজা স্টেডিয়ামে পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ডকে অবশেষে পরাজয়ের মুখ দেখতেই হলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধে আরদা গুলেরের চোখধাঁধানো এক পাসের পর গোলপোস্টে শট মেরে বসেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। অন্যদিকে এমবাপের দুটি নিশ্চিত গোলচেষ্টা নাতান বার্নার্দো দে সুজা ও মার্ক বার্ত্রার বীরত্বপূর্ণ ব্লকে ব্যর্থ হয়। বেতিসের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে চরম হিমশিম খাচ্ছিল গ্যালাকটিকোরা।

রীতিমতো ধাক্কা খেয়ে ৮১ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। নেলসন ডিওসার জোরালো হেড টিবো কোর্তোয়া দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিলেও, ফিরতি বলে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে রিয়াল বেতিসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ট্রয় প্যারোট। ক্লাবের হয়ে এটিই তাঁর প্রথম গোল। এর কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য ভিনিসিয়াসের ক্রস থেকে এক অ্যাক্রোবেটিক ফিনিশিংয়ে রিয়ালকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন কার্লোস এসপি। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের শেষ রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে এমবাপের একটি সূক্ষ্ম চিপ ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপরই ভিনিসিয়াসকে বক্সে নাতানের মারাত্মক ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় রিয়াল। নাটকীয় এই মুহূর্তে পুরো স্টেডিয়ামের নজর ছিল এমবাপের দিকে। কিন্তু রিয়াল সমর্থক ও স্পেশাল ওয়ান মরিনহোকে স্তব্ধ করে দিয়ে রিয়াল বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে এমবাপের শটটি আটকে দেন।

এই জয়ে চার ম্যাচ থেকে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সাথেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে বেতিস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় অভিযানের ঠিক আগে এমন এক অবিস্মরণীয় জয় বেতিস শিবিরে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের শতভাগ জয়ের রেকর্ডে বড়সড় এক ধাক্কা দিয়ে গেল।
