নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি এবং গাড়ি চালককে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল জলিলসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তানভীর ডাল মিল অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজার মনির হোসেন বাদি হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন—সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল (৪০), আব্দুল হক (৩০), সবুর খান (৩০), আলমগীর (৫০), মোরসালিন (২৫), মনির (২৩) ও খায়ের (২৩)। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগে গত ২২ আগস্ট আব্দুল জলিলকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা এবং ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন উপজেলার আষাড়িয়ার চর এলাকায় সিরামিক সেন্ট্রার সামনের সড়কে চাঁদা আদায়ের ঘটনা দুটি ঘটে। আসামিরা মেঘনা গ্রুপের পণ্যবাহী প্রতিটি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে এক হাজার ১০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিলো।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি ট্রাকের চালক মো. ফরিদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখায়। প্রাণভয়ে চালক ফরিদ ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য হন। পরদিন সকালে ওই চালক পুনরায় ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আবারও চাঁদা দাবি করা হয়। আগের দিন টাকা দেওয়ার কথা জানালে আসামিরা চালকের কাছ থেকে জোর করে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে বাধ্য হয়ে আবার চাঁদা দিলে চাবি ফেরত দেওয়া হয় এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে চালককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামি চক্রটি নদীপথে মেঘনা গ্রুপের জেটিতে নোঙর করা প্রতিটি জাহাজ থেকেও নিয়মিত দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করতো। এছাড়া সড়কের পাশে তাদের একটি কথিত কার্যালয় ছিলো, যা মূলত ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। চাঁদা দিতে রাজি না হলে চালক ও সহযোগীদের সেখানে আটকে রেখে মারধর এবং তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গাড়ির কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হতো।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, গাড়িতে চাঁদা দাবি, চালককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা রজু করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
