জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের একটি যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি খাতে সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু হওয়া বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সার্বজনীন ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টা ১৮ মিনিটে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজনৈতিক বা ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, যেন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি নাগরিক এবং পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই লক্ষ্যেই ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ফার্মার্স কার্ড’, ‘স্পোর্টস কার্ড’ এবং ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর মতো কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যুকৃত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সবকটি কার্ডকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত সরকারের ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নে জোর গতিতে কাজ চলছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মূল প্রতিপাদ্য ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ -এর সাথে এই ৩১ দফার নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা গ্রাম ও শহরের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ, ইউনিফর্ম ও দুপুরের খাবার দেওয়া শুরু হয়েছে, যা ঝরে পড়ার হার কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘স্পোর্টস’ বিষয়টি, যার অংশ হিসেবে গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
