ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য উন্নত হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা হ্রাস এবং মার্কিন রণতরীগুলোর সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতময় পরিস্থিতি আবারও এক বিপজ্জনক ও রক্তক্ষয়ী মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
আমেরিকান মার্কিন নাবিকেরা ইতোমধ্যে তাঁদের 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন' বিমানবাহী রণতরীসহ অন্যান্য যুদ্ধজাহাজে বিধ্বংসী গোলাবারুদ ও বাঙ্কার-বাস্টার বোমা লোড করা এবং যুদ্ধবিমানগুলোকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রাখার কাজ শুরু করেছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে 'অ্যাক্সিওস', 'সিএনএন' ও 'এনবিসি নিউজ' জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইরানের প্রাণঘাতী আক্রমণের চক্রান্তগুলো এক উন্নত ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে দেয়া এক গোয়েন্দা স্মারকে সতর্ক করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত আমেরিকান কর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
এই গোয়েন্দা সতর্কতার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা আরেকটি ছোটখাটো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালাতে পারি, অথবা তারা আমাদের শর্তে চুক্তিতে রাজি হবে।

হামলার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার পর সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের স্বজনদের সরিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান এবং লেবাননে মার্কিন দূতাবাসগুলোর কর্মীবাহিনী সীমিত করা হয়েছে।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও কমান্ডাররা ইরানের মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো, বিশেষ করে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর প্রবেশ পথ ও সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক সামরিক আঘাতের ছক তৈরি করেছেন।

এছাড়া ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র 'খার্গ আইল্যান্ড' এবং হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত স্ট্র্যাটেজিক 'কাশম আইল্যান্ড'-কেও সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলও ইরানের ওপর অতি দ্রুত আঘাত হানার জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে সংঘাতের দোলাচালের মধ্যেও কূটনৈতিক দরকষাকষির একটি ক্ষীণ আশার আলো এখনও বজায় রয়েছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা অমিবি মোকাদ্দাম জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর তাদের আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবে তেহরান আবারও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।

তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের তোড়জোড় চলছে, যেখানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বিচার বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। এখন বিশ্ব রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমেরিকা ও ইরান কি যুদ্ধের নয়া দামামা বাজ ওঠার আগেই সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে পারবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের মুখোমুখি হবে?
