আফগানিস্তানে পুরুষরা ক্রিকেট খেলতে পারছে, তাতে অবশ্য সংকট কাটছে না মোটেও, বরং ঘনীভূত হচ্ছে আরো। তালেবানের সরাসরি হস্তক্ষেপে ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ পদগুলোয় এসেছে পরিবর্তন, যেটা আইসিসি মোটেও ইতিবাচক ভাবে দেখে না। তার ওপর এবারের বিশ্বকাপে তালেবানের পতাকা নিয়ে খেলতে চায় বর্তমান আফগান সরকার, এমন আবদার করা হলে রশিদ খানদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়া হবে সময়ের ব্যাপার।
অর্থের তীব্র সংকট, দলের ভেতরে আর বাইরে অস্থিরতা, তার ওপর আবার বোর্ডের লাগামহীন দুর্নীতি, সবকিছু মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে বেশ লম্বা সময় ধরেই টালমাটাল অবস্থা। এই সংকটের মধ্যে আবার আইসিসির সাসপেনশনে পড়েছিল ব্র্যান্ডন টেইলর-সিকান্দার রাজারা।
কারণ হিসেবে আইসিসি পরিস্কারভাবেই জানায়, দেশের রাজনীতি থেকে খেলাধুলাকে আলাদা না রাখতে পারলে সেটা নেতিবাচকভাবেই দেখবে তারা। বোর্ডের ওপর জিম্বাবুয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে তাদের ক্রিকেট দলটা আইসিসি ইভেন্ট থেকে হয় সাসপেন্ডেড।
এবারে আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা ভাবুন। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ক্রিকেটটা আর মাঠে ফিরবে কিনা সেটা নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে নারীদের আপাতত ঘরে বন্দি রেখে পুরুষরা নামতে পেরেছে মাঠে। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সব ব্যবস্থা করে তালেবান।
আরও পড়ুন: মেসিকে পেছনে ফেলে আয়ের শীর্ষে রোনালদো
প্রথমত, ক্ষমতায় ফেরার পরপরই আজিজুল্লাহ ফজলিকে ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর চাকরি হারান বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ সিনওয়ারি। সেই পদে বসানো হয়েছে নাসিব খান। নতুন পরিকল্পনার সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবান। এসবের কিছু নিশ্চয় আইসিসির নজর এড়ায়নি।
এবারে শোনা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের পতাকার বদলে আসন্ন বিশ্বকাপে তালেবানের পতাকা ব্যবহার করতে চাইতে পারে দেশটির বর্তমান সরকার। নিজেদের প্রচারের এমন মওকা মিস করতে করতে চায় না তারা। কিন্তু সেই প্রচার করতে নিয়ে আইসিসি ইভেন্ট থেকেই নিষিদ্ধ হতে হবে তাদের।
নিজেদের প্রচারে আরো বেশ কিছু সাহসী পরিকল্পনা করছে বর্তমান আফগান ক্রিকেট। বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল্লাহ ফজলি বিভিন্ন দেশ সফরে শুরু করবেন এমাসেই। তার মধ্যে আছে পাকিস্তানও। পিসিবিকে আফগানিস্তানে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিতে চলেছেন ফজলি। নিজেদের দুঃসময়ে রমিজ রাজার বোর্ড সেই প্রস্তাব কীভাবে নেবে সেটাই দেখার অপেক্ষা এখন।
একাত্তর/এসজে
