কখনও নারী কন্ঠ নকল করে, কখনও ইমো একাউন্ট হ্যাক করে প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নাটোর ও রাজশাহীর সংঘবদ্ধ একটি চক্র।
লালপুর এবং বাঘা উপজেলার ৫০টি গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িতেই এক-দু'জন করে সেই হ্যাকার চক্রের সক্রিয় সদস্যের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, তারা মূলত ইমো অ্যাপস ব্যবহার করে এই প্রতারণা করছে। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে ওই এলাকার ৬৩ জন হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নাটোরের লালপুরে 'ইমো' হ্যাকারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করতে পুলিশকে স্বপ্রণোদিত আদেশও দিয়েছে আদালত।
হুবহু নারীদের কন্ঠ নকল করে প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নেয় লালপুরের ইমো হ্যাকিং চক্রের সদস্য শিপন আলী।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্বীকারোক্তি দিয়ে শিপন বর্ণনা করেন কিভাবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে উপার্জন করেছে হাজার-হাজার টাকা।
শিপন জানায়, ইমোর মাধ্যমে প্রবাসীদের নম্বর সংগ্রহ করে তারা। পরে, একটি ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাঠিয়ে সেই আইডি হ্যাক করে।
আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর হত্যার শিকার নিখোঁজ কিশোরী পূর্নিমা
এরপর তারা সেই আইডি’র এক সপ্তাহ কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করে ওই আইডি ব্যবহারকারীর আত্মীয়দের কাছে কল করে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
তার মতো এমন শতশত তরুণ ইমো হ্যাকিং করে লাখোপতি হয়েছে। লালপুরের বিলমাড়িয়া, মহারাজপুর, গন্ডবিল, মোহরকয়া, দুরদুড়িয়া, কৃষ্ণপুর, নাগশোষা, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সুলতানপুর, নাগপুরসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িতেই আছে এক দু’জন হ্যাকার।
পুলিশ বলছে এতদিন অভিযোগকারী না পাওয়ায় হ্যাকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেগ পেতে হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশে মামলা করে ইমো হ্যাকারদের বিরুদ্ধে চালাচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। এখন পর্যন্ত ১৩ টি মামলায় ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
একাত্তর/টিএ
