বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোকচিত্র নিয়ে ফ্রান্সের গিমে মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘উইটনেসিং হিস্ট্রি ইন দ্য মেকিং: ফোটোগ্রাফ বাই অ্যান ডি হ্যানিং’।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ফরাসি ফটোগ্রাফার অ্যান ডি হ্যানিংয়ের তোলা ছবি নিয়ে শীর্ষক এ প্রদর্শনীটি ১৯ অক্টোবর ২০২২ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশের সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন এবং সিআরআই আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অ্যান ডি হ্যানিংয়ের তোলা ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালের তোলা ছবিগুলো প্রথমবারের মতো তার নিজ শহর প্যারিসে দেখানো হবে।
এর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রদর্শনীটি ঢাকায় আয়োজন করেছিল সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন এবং সিআরআই।

ছবি: অ্যান ডি হ্যানিং
১৯৭১ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো সদ্য ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশে পাড়ি জমান অ্যান। তার লক্ষ্য ছিল, বিশ্বকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে রণাঙ্গনের চিত্র তুলে এনেছিলেন নিজ ক্যামেরায়। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল তার আলোকচিত্র।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত থেকে প্রচণ্ড উত্তাপ ও নিস্তব্ধতার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি দেয়ার প্রথম স্মৃতিটি হলো, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম দিকে। আমি দেখেছি মুষ্টিমেয় কিছু তরুণ মুক্তযোদ্ধা তাদের অস্থায়ী অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসছে। বাঁশের খুঁটিতে উড়ছে সবুজ, লাল ও হলুদ বাংলাদেশের পতাকা। তাদের পরনে ছিল খাকি ট্রাউজার এবং জীর্ণ শার্ট। তাদের হাতে ধরা পুরানো ৩০৩ লি এনফিল্ড রাইফেল। তারা আমাকে এবং আমার সহকর্মীদের অভ্যার্থনা জানিয়ে বিস্তৃত হাসি দিয়ে বলেছিল, "আপনারা এখন স্বাধীন বাংলাদেশে"। তাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতে বাতাসে উঁচু করে দৃঢ় সংকল্পে চিৎকার করে উঠে "জয় বাংলা"।

ছবি: অ্যান ডি হ্যানিং
এদিকে ১৯৭১'র পর ১৯৭২ সালে অ্যান ডি হ্যানিং দ্বিতীয়বার ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। দ্বিতীয়বার তার এদেশে আসার উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ক্যামেরায় ধারণ করা।
১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে অ্যান তার ক্যামেরায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নানাভাবে ধারণ করেছিলেন। তার তোলা এসব অসাধারণ ফটোগ্রাফ সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে রূপান্তরিত হওয়ার ইতিহাসের একটি অনন্য রেকর্ড।
অন্যদিকে ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থানের পরে বঙ্গবন্ধুর প্রায় সব ছবি ‘পরিকল্পিতভাবে’ ধ্বংস করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর যে কয়েকটি রঙিন ফটোগ্রাফ বর্তমানে অক্ষত রয়েছে, তার অধিকাংশই অ্যান ডি হ্যানিংয়েরই তোলা।

ছবি: অ্যান ডি হ্যানিং
এ প্রদর্শনীতে অ্যান ডি হ্যানিংকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার দেওয়া বাংলাদেশের পতাকাও প্রদর্শিত হবে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আলোকচিত্র ছাড়াও অ্যান ডি হ্যানিংয়ের তোলা ভারত, থাইল্যান্ড, লওস এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছবিও থাকছে এ প্রদর্শনীতে।
একাত্তর/আরবিএস
