একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর চালানো বর্বর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রস্তাব আনতে সহযোগিতা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসমিন।
গণহত্যা দিবসে সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে আয়োজিত এক সেমিনারে এ প্রস্তাব আনার দাবি জানান তিনি।
গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের সদস্য লর্ড রামি রেঞ্জার ও বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের যৌথ উদ্যোগে হাউজ অব লর্ডসে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরও ১৯৭১ সালে সংগঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ।
যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ১৯৭১ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে আর্লি ডে মোশন হয়েছিলো। আমরা এই সেমিনারের মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ানদের আবারো আর্লি ডে মোশন উত্থাপনের আবেদন জানিয়েছি।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজিয়া হাবিব বলেন, গণহত্যার বইগুলো চীনা, আরবি, রাশিয়ানসহ অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করতে হবে যেন ভিন্ন ভাষার মানুষও আমাদের গণহত্যার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারে।
সেমিনারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক দূত টম হান্ট এমপির কাছে প্রশ্ন ছিলো, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনে তিনি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারেন।
এর জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টি আমরা ভুলে যেতে পারি না। বাংলাদেশে যে নৃশংস গণহত্যা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে পৌঁছানো দরকার।
‘ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমি আমার সহকর্মীদের কাছে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরবো। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গণহত্যার বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপনে আমি কাজ করবো,’ বলেন টম হান্ট।
একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের মানুষের ওপর অতর্কিত গণহত্যা অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে। এরপরই অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগেই বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই ভূখণ্ডের, যার নাম বাংলাদেশ।
হানাদার পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের চালানো গণহত্যার দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে। দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য কাজ করছে সরকার।
শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে তুলন: হাইকমিশন, লন্ডন