জমকালো ও প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রধানতম উৎসব নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা। শুক্রবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে ৩২তম এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চারদিনের এই মেলার প্রথমদিনই পরিণত হয় লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলায়।
'যত বই, তত প্রাণ' এই শ্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া মেলার উদ্বোধন করা হয় ফিতা কেটে। এরপর মূলমঞ্চে শুরু হয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবারের মেলার আহবায়ক ড. আব্দুন নূর। এরপর ৩২তম এই আয়োজনকে সামনে রেখে ৩২জন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে মেলার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ডা. সিতারা বেগম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. নুরুন নবী, কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান, কলকাতা বইমেলার সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, শিশু সাহিত্যিক লুৎফর রহমান রিটন, কবি বিমল গুহ, কবি সুবোধ সরকার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ। এবারের মেলার সার্বিক সমন্বয় করছেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও লেখক হাসান ফেরদৌস।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও কলকাতা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও লন্ডন থেকেও লেখক ও পাঠকরা যোগ দিয়েছেন মেলায়। এতে অংশ নিচ্ছে ২৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৩২ বছর পেরিয়ে এসে এই আয়োজন আন্তর্জাতিক বইমেলায় পরিণত হয়েছে।
এবার চারদিনের বইমেলার একটি দিন থাকছে নতুন প্রজন্মের জন্য। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ রয়েছে, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার এবং সিম্পোজিয়াম। মেলার প্রথম দিন হুমায়ুন আহমেদ স্মরণে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সেলিম চৌধুরী।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের
এবারও বইমেলায় মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে। এবছর এই পুরস্কার পাচ্ছেন কবি আসাদ চৌধুরী। এছাড়া বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা থেকে একটি প্রকাশনা সংস্থাকে 'চিত্ত রঞ্জন সাহা শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা' পুরস্কার দেওয়া হবে।
