কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণাবিরোধী জোরালো অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিসহ মোট ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশনের (জিডিআই) সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্বোডিয়াজুড়ে মোট তিন হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও পরবর্তী সময়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ বছর বহিষ্কারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৪০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বহিষ্কৃতদের জাতীয়তার ভিত্তিতে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৩ হাজার নাগরিক চীনের। এছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। অন্য দেশের মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় দুই হাজার মিয়ানমারের এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক সরাসরি অনলাইন স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতোজন সাইবার ক্রাইম সিন্ডিকেটের হাত ধরে মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে কম্বোডীয় কর্তৃপক্ষের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
এদিকে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে কর্মরত সংগঠন ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন’ মনে করে, কম্বোডিয়া থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিদের মধ্যে কতোজন মূলত জোর করে অপরাধে বাধ্য হওয়া মানবপাচারের ভুক্তভোগী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। উপযুক্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের ঢালাওভাবে ‘অপরাধী’ বা ‘স্ক্যামার’ না ডেকে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সরকারিভাবে শনাক্ত ও নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটি আরও তাগিদ দিয়েছে, কম্বোডিয়া থেকে কতোজন বাংলাদেশি ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছেন এবং এখনো কতোজন সেখানে আটকা পড়ে আছেন, তার একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা দরকার। কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা এবং ফিরে আসা ব্যক্তিদের মানসিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও সামাজিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে এসব ভুক্তভোগী যেন কম্বোডিয়া সীমান্ত পেরিয়ে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা না করেন, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িত মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহবান জানিয়েছে তারা।
