প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে করোনা মোকাবেলা এবং জীবন-জীবিকা সুরক্ষার সঠিক পদক্ষেপ নেই বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা বলছেন, বাজেটে করোনার বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও এসব খাতে তেমন বরাদ্দ হয়নি।
শনিবার (১২ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজেট ডায়লগ -২০২১’ শীর্ষক বাজেট পরবর্তী এক সংলাপে তারা এসব কথা জানান। সিপিডি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে গণ-সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
প্রস্তাবিত বাজেট দিয়ে করোনার অভিঘাত মোকাবেলার বিষয়টি কতোটুকু আমলে নেয়া হলো সেটি জানতেই এই গণসংলাপ। এই অনলাইন আয়োজনে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ভঙ্গুরতা নিয়ে খোলামেলা কথা উঠে আসে।
সিপিডি বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো খাতগুলোতে পেছন ফেলে কম প্রয়োজনীয় কিংবা এখন প্রয়োজন নেই এমন খাতগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি।
এই বাজেটকে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী বান্ধব উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এখানে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি।
এ সময় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এনবিআরের দুর্বলতা আর অযথা হয়রানির কারণে তারা বরং ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রতিনিয়ত।
গণসংলাপে ঘুরে ফিরেই এসেছে অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিয়ে তথ্যের গরমিল বিষয়টি। বক্তারা বলেন সরকারি দলের ভেতরে এমনকি সংসদেও বাজেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কম।
আরও পড়ুন: বাজেটে কোনো দুর্বলতা নেই: অর্থমন্ত্রী
এ সময় বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা স্বীকার করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক দূর্নীতি বন্ধ করে কাজে গতিশীলতা আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি উঠে আসে গণসংলাপে। বক্তারা বলেন, এমন সুযোগ দিলে নিয়মিত করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন।
সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দিন, এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিমসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। এছাড়া গেস্ট অব অনার হিসাবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী।
একাত্তর/আরএ
