সাধারণের কাছেও বহু পরিচিত অর্থনীতিবিদ তিনি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে অর্থমন্ত্রীর সমান দায়িত্বও পালন করছেন ড. এবি মির্জা আজিজ। সম্প্রতি একাত্তরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ‘অর্থনীতি কেমন আছে’। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুলিয়া আলম।
আজিজ জানিয়েছেন, চলমান সঙ্কট, খেলোপিদের বৃত্তে আটকে যাওয়া ব্যাংক খাত নিয়ে চিন্তার কারণ।
এদিকে টাকার মান পড়ে যাওয়া কিংবা শেয়ার বাজারের মন্দা নিয়ে অবশ্য অতো চিন্তিত নন একসময়ের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই প্রধান।
তবে দেশে বৈষম্য বৃদ্ধি আর দারিদ্র বিমোচনের হার কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ।

জুলিয়া: আপনি কয়েক মাস দেশের অর্থনীতির কাণ্ডারির দায়িত্বে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এখন দেশের অর্থনীতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?
ড. মির্জা আজিজ: আমি অর্থনীতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম ২০০৭-২০০৮ সালে এর ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে, পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি বলবো, বিশ্বজুড়ে এখন অর্থনৈতিক মন্দার লক্ষণ, অনেক দেশেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক। সেই তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে বলা হচ্ছে। সেটি অনেক দেশের তুলনায় ভালো প্রবৃদ্ধি। তবে অর্থনীতিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। যদিও এর জন্য বিশ্ব পরিস্থিতি দায়ী। উন্নত দেশগুলোও এখন ডাবল ডিজিট ইনফ্লেশন হচ্ছে। আসলে ইনফ্লেশনে প্রান্তিক মানুষ বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের জীবনমানে বড় রকমের অবনতি ঘটে যেটি একটি দেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। যেহেতু মূল্যস্ফীতি মূলত আসছে ইউক্রেন- রাশা যুদ্ধের প্রভাবে সাপ্লাই চেইন ডিসরাপশনের কারণে। যেহেতু এটি হচ্ছে বহির্বিশ্বের পরিস্থিতির কারণে কাজেই আমাদের অভ্যন্তরীণ মনিটারি বা ফিসক্যাল পলিসি দিয়ে মূল্যস্ফীতি উপশম করাটা বেশ কঠিন। তবু আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো, তাদের দেয়া টাকার এমাউন্ট বাড়ানো আর সর্বোপরি সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বহিঃখাত। কয়েক মাসে রিজার্ভ বেশ বড় মাত্রায় কমে গেছে এর কারণ এসময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক কমেছে। আমদানির মাত্রা রপ্তানির চাইতে অনেক বেশি ছিলো। সেখানে একটা প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে সমালোচনার পর সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও কিছু ইনিশিয়েটিভ নিয়েছে আমদানিতে ওভার-ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা এবং অর্থ পাচার হচ্ছে কি না দেখছে। সেটি একটা উদ্বেগের বিষয় বটে। আরেকটা বিষয়, আমাদের দেশে রেমিট্যান্স একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে। রেমিট্যান্সেও সাম্প্রতিককালে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি ছিলো। একদিকে আমরা শুনছি বিদেশে বেশি লোক যাচ্ছে কিন্তু রেমিট্যান্স কমছে। এর পেছনে কারণ হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে না এসে হুন্ডিতে প্রবাসী আয় বেশি আসছে তাই হুন্ডির পথ বন্ধ করতেই হবে।
জুলিয়া: সব শ্রেণির মানুষই এখন অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কিত। এই দায় কার?
ড. মির্জা আজিজ: এর উত্তর দেয়া কঠিন। কেননা অর্থনীতির সাথে সমাজের অনেক মানুষ সম্পৃক্ত- নীতিনির্ধারক যারা তারা, ব্যবসা বাণিজ্য করেন যারা তারা আর উৎপাদনে সম্পৃক্ত যারা তারা। দেখুন বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে যে কোনো দেশের অর্থনীতি বাইরের পৃথিবীর পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। কাজেই আপনার প্রশ্নটির সহজ উত্তর দেয়াটা বেশ কঠিন। তবে এখন আমাদের যতোটুকু সম্ভব চেষ্টা করতে হবে বহিঃখাত থেকে যে অভিঘাত আসছে তা আভ্যন্তরীণভাবে মোকাবিলা করা। সরকার ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে নন এসেন্সিয়াল পণ্য আমদানি বন্ধ করা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করা। তবে এখন যা করতে হবে তা হলো রপ্তানিতে একক পণ্য নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও বাজার বৈচিত্র্যকরণে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার খুবই প্রয়োজন।
জুলিয়া: মাত্র এক বছরের কম সময়ে টাকার মান ২০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়া অর্থনীতিবিদ হিসেবে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ড. মির্জা আজিজ: বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকার মান কমাটা স্বাভাবিক। অনেকে মনে করেন টাকার মান আরো কমানো উচিত। কেননা আমরা যদি ডলারের সরবরাহ বাড়াতে চাই আমাদের টাকার মান আরো কমানো উচিত। তবে সেখানে সমস্যা হচ্ছে টাকার মান যদি আরো বেশি কমে তাহলে র-মেটেরিয়ালস থেকে শুরু করে অনেক আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে। একদিকে টাকার মান বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে কিন্তু টাকার মান বাড়লে আমদানিকৃত পণ্যের যদি সরবরাহ কমে যায় তাতেও কিন্তু আবার মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এখানে সরকার যে অবস্থানে তা মোটেই স্বস্তিকর না। আমি মনে করি টাকার মান পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত, দেখা যাক এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। তবে সেখানে যদি কোনো কারসাজি দেখা যায় সেগুলো বন্ধ করা লাগবে।
জুলিয়া: ঋণের নামে কেনো ব্যাংক খালি হচ্ছে? লুটেরা ও খেলাপিদের শক্তির শেকড় কোথায়? সারাদেশে সবাই এনিয়ে উদ্বিগ্ন। আপনি তা কিভাবে দেখছেন?
ড. মির্জা আজিজ: আসলে ব্যাংকিং খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা মোটেই অযৌক্তিক নয়। খেলাপি ঋণ বেড়েই যাচ্ছে। খেলাপি ঋণের যে হিসেব দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। প্রকৃত খেলাপি ঋণের মাত্রা আরো অনেক বেশি। সার্বিকভাবে আমাদের দেশে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিটা বেশ উদ্বেগজনক। অন্যদিকে সুদের ছয় নয় মানে ৬% ডিপোজিট রেটও ব্যাংকগুলোর জন্যও স্বস্তিকর না ডিপোজিটরদের জন্যও না। যেখানে ইনফ্লেশন ৮% এর উপরে সেখানে ডিপোজিট যদি ৬% পাই তাহলে তো আমরা মূলধন হারাচ্ছি। একে তো মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে মূল্যস্ফীতির কারণে আর যাদের সঞ্চয় আছে তারা রিয়েল এস্টেট বা অন্য জায়গায় লাগাচ্ছে। এর কারণে ব্যাংকগুলোতে লিকুইডিটিও আন্ডার থ্রেট। এক্ষেত্রে আমি মনে করি যে ৬% এবং ৯% রেট বিষয়টা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন আছে। আরেকটা বিষয় সার্বিকভাবে ব্যাংকের গভর্নেন্সে অনেক সমস্যা আছে। আমাদের দেশে অনেক ঋণ নেয়া হয় রিলেশনশিপ লেন্ডিং। দেখা যায় দুই ব্যাংকের পরিচালক একজন আরেকজনের ব্যাংক থেকে ঋণ নিলো কেউই তা পরিশোধ করলো না। দ্বিতীয়ত যারা ঋণগুলো এ্যাপ্রাইজ করে তাদের ক্যাপাসিটিও খুব একটা উঁচু মানের না। কাজেই ঋণ যখন দেয়া হচ্ছে যে প্রজেক্টের জন্য সেটি কতটুকু রেভিনিউ জেনারেট করতে পারবে সেটা দিয়ে ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কিনা সেটি নিশ্চিত থাকে না। কোলেটেরাল নিয়েও প্রশ্ন আছে। অনেক সময় কোলেটারাল নেয়াই হয় না বা যে কোলেটারাল নেয়া হচ্ছে সেটার মালিকানা ভেরিফাই করা হয় না। এখানে আমি দুঃখের সাথে এটা বলতে চাই যে আনহলি এলায়েন্স ঋণগ্রহীতা, ঋণদাতা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে যোগসাজোসের অভিযোগও আছে। কাজেই ব্যাংকিং খাতে গভর্নেন্সের উন্নতি এখন বড় প্রয়োজন।
জুলিয়া: শেয়ারবাজার নিয়েও আবার হতাশ সবাই। এই দায় কার? কি ভুল হচ্ছে, কি করা হচ্ছে না, কি করা প্রয়োজন?
ড. মির্জা আজিজ: আমি কিন্তু মনে করি শেয়ারবাজার নিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ার কিছু নাই। গত কয়েক মাসে ডিএসই ইনডেক্স মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। উঠছে নামছে তবে ৬ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ পয়েন্টের ধারের কাছেই আছে। কাজেই এ ধরনের পরিবর্তন খুব একটা ভীতির কিছু না। তবে আমাদের দেশে ভালো লিস্টেড কোম্পানির সংখ্যা ও টার্ন ওভারের পরিমাণ বিশ্বের অনেক দেশের শেয়ার বাজারের তুলনায় খুবই কম। আমাদের ভালো লিস্টেড কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে হবে সরকারি কোম্পানি হোক, বিদেশি কোম্পানি হোক বা দেশের বেসরকারি কোম্পানি হোক। তাহলেই বাজারের ডেপথ বাড়বে। আপনার হয়তো মনে আছে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৬টি সরকারি কোম্পানি আইডিয়েন্টিফাই করেছিলেন যেগুলো শেয়ারবাজারে লিস্টিং হবে। তখন আমি উনাকে বলেছিলাম আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি আপনি এর পেছনে লেগে থাকতে লাগবে নয়তো শুধু ডিরেকশন দিলে এটা অনওয়ার্ড হবে না। দুঃখের বিষয় যে আমার প্রেডিকশনই বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। সেই ১৬টি কোম্পানির একটিও বাজারে লিস্টিং হয় নাই। আরেকটা বিষয় আমাদের শেয়ারবাজার স্টকভিত্তিক এটাকে ইনস্ট্রুমেন্টসে ডাইভার্সিফাই করতে হবে। যদিও বন্ড মার্কেট চালু হয়েছে তবে তা খুব একটা জনপ্রিয় নয়।
আসল কথা হলো বাজারে সুশাসন দরকার। কিছু কিছু বিষয় চেষ্টা করা হচ্ছে তবে আমি মনে করি যে শুধু জরিমানা করে শেয়ার বাজারের কারসাজি বন্ধ করা যাবে না। বর্তমান যে আইন রয়েছে তার কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। আর আইন করে জেল দেয়া যায় কিনা সেটা দেখতে হবে। কারণ বিত্তশালীরা জেলে যেতে চাইবে না।
জুলিয়া: অর্থনীতির নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আমাদের রাজনীতিবিদ ও আমলাদের দুর্বলতাগুলো কি? উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশগুলো থেকে তাদের কি শিখতে হবে?
ড. মির্জা আজিজ: দেখুন আমাদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, সরকারি যে সমস্ত প্রকল্প নেয়া হয় প্রকল্পগুলো কতটুকু যৌক্তিক সেটা বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব হচ্ছে প্রথমত ডিসপনসেরিং মিনিস্ট্রি এবং তারপর পরিকল্পনা কমিশন। প্রজেক্ট এপ্রাইজাল যেটাকে বলা হয় সেটা সঠিকভাবে হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্প নেয়া হয় তাদের ইনটেনজিক পেরিটের ভিত্তিতে না স্থানীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতার ইন্টারেস্টে বা তাকে খুশি করার জন্য। দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে যে প্রকল্পগুলো নেয়া হয় তার প্রায় প্রত্যেকটিতে সময়কাল বাড়তে থাকে সে সাথে খরচও বাড়তে থাকে। ৩-৪ বছর আগে বিশ্বব্যাংক একটা স্টাডি করেছিল বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর। তারা বলেছিল যে অনেক বেশি প্রকল্প নেয়া হয় ফলে অল্প অল্প বরাদ্দ দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের স্টাডিতে ৩২-৩৩ টা প্রকল্প আইডিয়েন্টিফাই করেছিলো যেগুলোতে বর্তমান হারে বরাদ্দ দিলে ১০০ বছর লাগবে প্রকল্পগুলো শেষ করতে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রকল্পের সংখ্যা কমিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের। এখানে একটা প্রশ্ন আপনি তুলেছেন যে দায়বদ্ধতা তো খুব একটা নাই। যে ইনস্ট্রাকশনগুলো আসে সেগুলো ফলো না করলে যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য খুব একটা কোনো রিওয়ার্ডেরও ব্যবস্থা নাই। আর বেশিরভাগই খারাপ কাজ করে তাদের জন্যও পানিশমেন্টের কোনো ব্যবস্থাও নাই।
জুলিয়া: এরশাদের সরকার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় সব সরকারই উন্নয়ন প্রচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে দেশে বৈষম্য অনেক। কি বলবেন? প্রকৃত উন্নয়ন কিভাবে হবে?
ড. মির্জা আজিজ: প্রথম কথা হচ্ছে বাংলাদেশে নিঃসন্দেহে উন্নতি হয়েছে। উন্নয়নের মাপকাঠিতে যদি আপনি জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখেন এবং মাথাপিছু আয় দেখেন বেশ অনেকটাই বেড়েছে। কাজেই উন্নয়ন যে হয় নাই বাংলাদেশে এটা বলা কিন্তু ঠিক না। আমাদের দারিদ্র্য বিমোচনেও বেশ কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখানেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। তা হচ্ছে উন্নয়নের সাথে সাথে আয় বৈষম্য বেড়ে গেছে। আয় বৈষম্য মাপার একটা সূচক আছে যেটাকে বলা হয় জিনি-কোইফিশিয়েনট। এটা এখন বাংলাদেশে ০.৪৮৯ মানে ০.৪৯ তবে এটা ০.৫ হলে হাইলি ডিস্ট্যাবিলাইলাইজিং বলে ধরা হয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি হলেও যে রেট অফ রিডাকশন অফ পোভারটি এটা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগে ৫ বছরের গড় ছিল ১.৮% এরপর ১.৭% এখন বোধ হয় ১.৩% এ নেমে এসেছে। এটাকে বাড়াতে হবে। সুতরাং যদি আয় বৈষম্য কমাতে পারি এবং প্রবৃদ্ধির হার আরো গতিশীল করতে পারি তাহলে দারিদ্র্য সীমার নিচে লোকের সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে।
জুলিয়া: আপনাকে ধন্যবাদ
ড. মির্জা আজিজ: আপনাকেও ধন্যবাদ
একাত্তর/এসি
