জীবনযাত্রার খরচ সহনীয় রেখে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরানোই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। এ জন্য, অর্থ পাচার বন্ধ করে বৈধপথে প্রবাসী আয় বাড়ানো ও সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরশীলতার বিকল্প উৎস খোঁজার তাগিদ দিলেন তারা। এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল আলোচনায়, রাজস্ব কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শও দেন আলোচকরা।
চলতি সপ্তাহে পাশ হতে যাচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট। শনিবার এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল বৈঠকেও এবারের বিষয় ছিলো বাজেট ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ।
সাত লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের যে বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার তার সংখ্যাগত দিক নিয়ে প্রশ্ন ছিলো না কারো-ই। তবে বক্তারা জানালেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রায় যে চমক দেখানো হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়।
অর্থনীতিবিদ ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, বর্তমান পর্যায়ে প্রবৃদ্ধির হিসেব থেকে আমাদের একটু হলেও বের হয়ে এসে মূল্যস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের দিকে নজর দিতে হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জটা যদি আমরা ঠিক করতে পারি, তাহলে কিছুটা হলেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কমবে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসের হোসেন বলেন, সময়মত আমি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমার ফ্যাক্টরি চলছে ১০-১২ ঘণ্টা। ফলে প্রোডাকশন লস হচ্ছে।
আলোচনায় উঠে আসে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতার কথা। আলোচকরা বলছেন, প্রত্যক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা না বাড়িয়ে যে পরোক্ষ করের দিকে যাচ্ছে এনবিআর, তা দিয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অসম্ভব।
বিজিএমইএয়ের সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, প্রচুর পরিমাণের ভ্যাট সাধারণ মানুষের দিতে হচ্ছে। কিন্তু তা শেষমেশ ঠিকভাবে সরকারের কোষাগারে যাচ্ছে না।
মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে মুদ্রানীতি নিয়েও চলে বিশ্লেষণ। সুদ হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বললেও সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরশীলতা মূল্যস্ফীতি আরো বাড়াতে পারে, বলছেন আলোচকরা।
পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমি কোন উপায়ে দেখি না, এই বাজেটে অর্থায়নে টাকা না ছাপিয়ে। সরকারকে লক্ষ-কোটি টাকা ছাপাতে হবে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, কিছু কিছু ব্যাংকের জন্য আজ পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাহলে বাজেট বাস্তবায়নে সঠিক কৌশল কি হতে পারে? সে পরামর্শও এলো আলোচনায়।
আরও পড়ুন: ট্রানজিট চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক ড. এম এম আকাশ বলেন, লোনের পরিমাণ কমাতে হবে। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার যে প্রবণতা তাও কমাতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তা বেশি।
একাত্তর/আরএ
