সরকার নির্ধারিত দাম তো মানছেনই না বরং বৃষ্টির অযুহাতে সরবরাহ কমের কথা বলে আলু-পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর আড়তদারদের যুক্তি, কমিশনে ব্যবসা তাদের ফলে দাম যা বাড়ার সেটি বাড়িয়ে দিচ্ছেন কৃষক আর আড়তদাররা।
যদিও ভোক্তা অধিদপ্তর বলছে, উৎসস্থলে দাম কমেছে কিন্তু এখন কারসাজি যা করার সেটি করছে আড়তদার আর পাইকারি ব্যবসায়ীরাই।
আলুর কেজি সর্বোচ্চ ৩৬ এবং পেঁয়াজের কেজি ৬৫ টাকা কার্যকর হয়নি। বরং বৃষ্টির অযুহাতে কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত আলু-পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আড়তদার আর পাইকাররা।
রাজধানীর শ্যামবাজারে একদিনে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮২ থেকে ৮৮ টাকা এবং আমদানি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা কেজি।
মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে পাইকারিতে অবশ্য দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা কেজি। এই বাজারে পাইকারিতে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৯ টাকায়।
ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বললেন, যখন বেশি দামে বিক্রি করেন তখন ব্যবসায়ীরা বলেন কমিশন এজেন্ট তারা। আবার যখন কমে যায় দাম তখন এই ব্যবসায়ীরাই বলেন, লসটা মূলত তাদেরই হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, আগেকার দরে ক্রয় করা পেঁয়াজ উনারা যদি ৮০ থেকে ৮২ বা ৮৪ টাকায়ও বিক্রি করেন তবুও উনাদের পর্যাপ্ত লাভ থাকবে। কিন্তু সে পেঁয়াজ উনারা দাম বাড়িয়ে ৯০ টাকা লিখে দিয়েছিলেন। এখন আমরা এখানে সর্বোচ্চ ৮৪ টাকা নিশ্চিত করলাম।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া জেলা, রংপুর জেলার হিমাগার থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে আলু সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা যদি দয়া করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন তাহলে আমরা কোল্ডস্টোরেজ, জেলা প্রশাসনসহ ভোক্তা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবো। তাহলে এই ব্যবসায়ীরা ২৭ টাকা দরে আলু পেয়ে যাবেন। ফলে সরকারি বেঁধে দেয়া দরে আলু বিক্রি হবে।
পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিদপ্তর জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
আলু-পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না সরকার নির্ধারিত দামে