অর্থনীতি বদলে দেয়ার শক্তি বাড়াচ্ছে মাতারবাড়ি। চট্টগ্রামের মহেশখালীতে দেশের প্রথম ও একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ী বন্দর চ্যানেলটি শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি চালু হলে সহজ হবে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি।
শুক্রবার সরেজমিন, শেষ হয়েছে সাগর থেকে টার্মিনালের নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জাহাজ চলাচলের চ্যানেল খননের কাজ। তৈরি হয়েছে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ থেকে বন্দর ও জেটিকে রক্ষার দীর্ঘ বাঁধ বা ব্রেক ওয়াটারের কাজও।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানান, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এ চ্যানেল খনন করেছিল কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। পরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত যুক্ত হলে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও গভীরতা বাড়ানো হয় চ্যানেলের।
চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. সোহাইল বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর চ্যানেলটি বুঝে পায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আগামী ১১ নভেম্বর এটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার ও ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণের কাজ।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন. মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরে ভিড়তে পারবে ১৮ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ। এতে আমেরিকা-ইউরোপে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত সাতটি রাজ্য, নেপাল-ভূটানসহ পাশের দেশগুলোতে পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
২০১৪ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে এ প্রকল্পের জন্য ঋণ চুক্তি সই হয়। প্রকল্পটির খরচ ধরা হয়েছিল ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার সহায়তা আছে ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা।
এই প্রকল্পের আওতায় জাহাজ থেকে কয়লা খালাসের সুবিধার্থে গভীর সমুদ্র বন্দরও নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে কয়লা খালাসের জন্য জেটির কাজ প্রায় শেষ। জেটিতে জাহাজও চলাচল শুরু করেছে।
একাত্তর/এসি
উৎপাদন শুরু, জাতীয় গ্রিডে মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎ