মেয়াদি আমানতের ওপরে বেঁধে দেয়া সুদের হার আদৌও কতোটুকু গ্রাহকবান্ধব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বয়ং আমনতকারীরা। তারা বলছেন, ব্যাংকে টাকা রেখে লাভবান হবার চাইতে বরং লোকসানই গুনছেন তারা।
অন্যদিকে, এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ ব্যাংকাররাও। তাদের দাবি, কোন রকম পর্যালোচনা ছাড়ায় গড় সুদহার সাড়ে পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনায় বিপাকে পড়বে ব্যাংক খাতও।
আর সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দীন মনে করেন, ঋণ-আমানতের সুদ হার নয়-ছয়ের মাশুলের ফল এটি। তার মতে, চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত নয় বরং ব্যাংক খাতে সুস্থ প্রতিযোগীতা আনতে এখন প্রয়োজন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আধিপত্য কমানো।
ব্যাংকে ১১ লাখ টাকা মেয়াদি আমানতে প্রতি মাসে যা লভ্যাংশ আসে তা দিয়ে সংসার চালান রাজধানীর এক গ্রাহক। বলছেন, ক’বছর আগেও ব্যাংকে টাকা রাখলে ভালো মুনাফা মিলতো। এখন তা নেই। ফলে জীবন চালাতে হিমশিম অবস্থা।
গেলো বছরের এপ্রিলে ঋণ-আমানতের সুদহার প্রতি একশ’ টাকার বিপরীতে ৯ ও ৬ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে ৬ শতাংশ তো দুরে থাক, এর পরের সময়গুলোতে ব্যাংক টাকা রেখে আড়াই শতাংশও মুনাফা পায়নি আমানকারীরা।
এ বছরের জুন শেষে গড় সুদহার নেমেছিলো সাড়ে চার শতাংশের নিচে। অথচ বাজারে মূল্যস্ফীতিও এর চেয়ে বেশি।
আমানতকারীদের এমন সংকটে মেয়াদি আমানতের সুদ হার সাড়ে পাঁচ শতাংশের নিচে না নামানোর নির্দেশনা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকাররা মনে করছেন, নতুন সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে ঋণ ও আমানতের সুদ বাড়াবে।
এ অবস্থায়, গড় সুদ হার যৌক্তিকিকরণের বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাথে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ব্যাংকাররা।
সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দীন আহমেদ মনে করেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এভাবে একের পর এক সুদের হার চাপিয়ে দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর ব্যাংকিং খাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আধিপত্য কমানোসহ বেশ কিছু পরামর্শও দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে, মেয়াদি আমানতের ওপর নির্ধারণ করা গড় সুদহার কার্যকর হয়ে গেছে সোমবার থেকেই।
একাত্তর/এআর
