চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম আট দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৭৫ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ১৯৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা এক হাজার ১৫০ কোটি টাকার সমপরিমাণ প্রবাসী আয়।
রোববার (৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এ বছরের নভেম্বরের প্রথম আট দিনে প্রবাসী আয় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যেখানে এবার এসেছে ৭৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে আট নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের অর্থ বছরের একই সময়ে এ অংক ছিলো ৯৫৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছরওয়ারি হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, যা ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের তুলনায় যা ২৬ দশমিক আট শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স ছিল জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০.৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯.৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ডলারের বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরছে।
