এবার যাব বাড়ি, সঙ্গে যাবে গাড়ি- এই স্লোগান নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো বেসরকারিভাবে ঢাকা-ভোলা নৌপথে ‘কার্নিভাল ক্রুজ’ ও ‘কার্নিভাল ওয়েভ’ নামের দুটো ফেরি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন লিমিটেডের ফেরি দুইটি বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যানবাহনসহ যাত্রী পারাপারের ফেরি সার্ভিস পৃথিবীর অনেক দেশে আছে। আমাদের দেশে এটি নতুন। আমরা ফেরি সার্ভিসে এখন আন্তর্জাতিক মানের অংশ হয়ে গেলাম। এটা আমাদের গর্বের।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বীপ জেলা ভোলাবাসীর জন্য আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকূলীয় মানুষের জন্য সবসময় চিন্তা করেন। তাদেরকে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভোলা জেলায় অনেক কিছুই আছে। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাটা দুর্বল।
তিনি বলেন, ফেরিতে ৪০০ আসনে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও কার, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী মিনিট্রাক পারাপারের সুযোগ থাকবে। এই ফেরিতে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে ভোলা পৌছাতে পারবেন যাত্রীরা।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দিয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করার জন্য। আগে ভোলার মানুষ যেখানে রাতে মানুষ লঞ্চে চলাচল করত, এখন দিনের বেলায় মানুষ লঞ্চে চলাচল করে। আমরা প্রথম দিনের বেলা লঞ্চ সার্ভিস চালু করেছি। জনগণ উপকার পাচ্ছে। আজকে আর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যানবাহনসহ যাত্রীবাহী রো রো ফেরির উদ্বোধন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আটকে ধরার জন্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করার জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। আমাদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে, দেশ অন্ধকারের পতিত হয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন বলেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মতিউর রহমান, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এস এম ফেরদৌস আলম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম মাকসুদ আলম, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন, কার্নিভাল ক্রুজ লাইন লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ মাসুম খান প্রমুখ।
কার্নিভাল ক্রুজ লাইনের পরিচালক মাসুম খান জানান, যানবাহনসহ যাত্রীবাহী দুটি রো রো ফেরি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-ভোলা (ইলিশা) রুটে চলাচল করবে। কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ থেকে প্রতিদিন সকাল আটটায় ছেড়ে যাবে। ভোলার ইলিশা ঘাটে দুপুর ২টায় পৌঁছাবে। ইলিশা থেকে রাত ৯টায় ছাড়বে।
তিনি জানান, ফেরিতে সিট ক্যাপাসিটি রয়েছে ৩৩০ জনের। এর মধ্যে কেবিন ৬০টি, চেয়ার ১০০টি। ৩৫টি গাড়ির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ঝুঁকিমুক্ত ও সাশ্রয়ী চলাচলের সঙ্গে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন বুনছেন সাধারণ মানুষ।
রেলপথে যুক্ত হবে মোংলা ও পায়রা বন্দর: রেলমন্ত্রী