বাংলাদেশকেই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার পথ বের করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন পরবর্তী দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখারও উপায় বের করতে হবে।
শনিবার এডিটরস গিল্ডের বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনায় এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনরা।
‘বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ’ বিষয়ে আলোচনা করেছে সম্পাদকদের শীর্ষ সম্মেলন এডিটরস গিল্ড।
ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়ে উঠার কারণে দক্ষিন-এশিয়ার অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে এখন অঞ্চলের বড় দেশগুলোর কাছে।
মসিউর রহমান বলেন, ইমার্জিং মার্কেট ইকোনমিস এবং ডেভেলপিং ইকোনমিস- এই দুই গ্রুপ কিন্তু গ্লোবাল ইকোনমিতে আস্তে আস্তে বড় রোল পলে করা শুরু করলো। যেখানে জি-৭’র শেয়ার ছিলো ৫০-৬০ শতাংশ, সেখানে তারাই এখন বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় অর্ধেকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সেজন্যই জি-৭ এখন জি-২০’তে পৌঁছেছে।
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, উন্নয়নের একটা মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে বলা যেতে পারে এবং এটা আরও বৃদ্ধি পাবে। তার ফলে যেটা হবে, বিশ্বের অন্য দেশগুলো এখানে বিনিয়োগ করতে চাইবে।
সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, গ্রস ভায়োলেশনের যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেখানেও বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর।
আলোচকরা বলেন, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশীদের যে তৎপরতা তাতে বাংলাদেশকেই নিজের সুবিধা বের করে নিতে হবে। যাতে নির্বাচনে তাদের প্রভাব ফেলার সুযোগ কম থাকে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, আগামী দিনগুলোতে হয়তো আরও ভিআইপি গেস্টরা আমাদের এখানে আসবেন, এটা মাথায় রেখেই আমাদের এগুতে হবে এবং আমাদের কোনো ফাঁদে পা দিলে চলবে না।
বীর বিক্রম মেজর জেনারেল (অবঃ) গোলাম হেলাল মোর্শেদ খান বলেন, আমাদের জন্য এখন জরুরী হলো সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং সেটাই আমরা করছি।
এর পাশাপাশি একই সাথে নির্বাচন পরবর্তী দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার উপায় বের করার পরামর্শ দেন তারা।
নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, আমাদের দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকতো, আমাদের দেশের মানুষ যদি চিন্তা-ভাবনায় গণতান্ত্রিক না হতো, নারী নেতৃত্ব এভাবে অগ্রসর হতে পারতো না।
সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম বলেন, গত ৫০ বছরে আমরা এমন কোনো ফাউল করিনি যে কোনো পরাশক্তি আমাদের ওপর চড়াও হতে হবে।
বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেই নিতে হবে।
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা বাংলাদেশকেই নিতে হবে।
