দরবেশ পরিচয়ে সমস্যা সমাধানে উপায় বাতলানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুই প্রতারকেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম (৫৯) একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখেন। সেই বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, এক ব্যক্তি নিজেকে সৌদি আরবের মসজিদে নববীর ইমাম পরিচয় দিয়ে বলছেন, তিনি কোরআন-হাদিসের আলোকে মানুষের সমস্যা সমাধান করেন। বিজ্ঞাপনে দুজন নারীর সাক্ষাৎকার দেখানো হয়, যেখানে তাদের বলতে শোনা যায়, তারা এই দরবেশে কাছ থেকে সমস্যার সমাধান পেয়েছেন।
এতে প্রলুব্ধ হয়ে আনোয়ারা বেগম বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করেন। এক ব্যক্তির সাথে তার কথা হয়। ওই ব্যক্তি আনোয়ারার পারিবারিক সমস্যার কথা শুনতে চান।
দরবেশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি আনোয়ারাকে ‘মা’ সম্বোধন করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে সমাধানের জন্য খরচ লাগবে বলে জানান। ওই ব্যক্তি আরও বলেন, এসব কথা কাউকে বললে আনোয়ারার স্বামী ও সন্তানের ক্ষতি হবে।
এরপর, বিভিন্ন সময়ে দরবেশ পরিচয় দেওয়া প্রতারক আনোয়ারা বেগমকে ফোন করে বিভিন্ন অজুহাতে ও ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
পরে আনোয়ারা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর অভিযোগ করেন।
পরে সিআইডি প্রতারকদের শনাক্ত করে। ঢাকার উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. তানজিল আহমেদ ওরফে তানজিদ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি জানান এই চক্রের মূল হোতা মো. হাসেম।
তানজিল জিজ্ঞাসাবাদে জানান, হাসেম প্রথমে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে অল্প পরিমাণ টাকা নিতো। এরপর বেশি পরিমাণের টাকা নেওয়ার সময় তানজিলকে আনোয়ারা বেগমের কাছে পাঠাতো। পরে সিআইডি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হাসেমকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে হাসেম জানান, তিনি ২০০৫ সাল থেকে এ ধরনের প্রতারণা করছেন। প্রথম দিকে বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতেন। ২০১৬ সাল থেকে ইউটিউব ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেনে। তিনি প্রতিমাসে ফেসবুকে চার লাখ টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিতেন এবং পোস্ট বুস্ট করতেন।
হাসেম আরও জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে সৌদি আরব, দুবাই, ওমানসহ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতে দেশভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। এছাড়াও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি ও ফ্রান্সে বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন তিনি।
সিআইডি জানিয়েছে, দরবেশরূপী প্রতারক হাসেম হিন্দি ও আরবি ভাষায় কথা বলাসহ বিভিন্ন রকম কন্ঠে কথা বলতে পারেন।
প্রতারক হাসেম ফ্রান্স প্রবাসী ইমাম হোসেনকে ১২ কোটি টাকার লটারি জিতিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেড় কোটি টাকা এবং আরেক ইতালি প্রবাসীর কাছ থেকে লটারি ও জুয়ায় টাকা জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৪০ লাখ টাকা টাকা হাতিয়ে নেন।
সিআইডি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ফ্রান্স প্রবাসী ইমাম হোসেন তার বড় বোনকেও দরবেশরূপী হাসেমের ভক্ত বানিয়ে ফেলে। বড় বোন তার ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য জমানো টাকা ভাইয়ের কথায় প্রতারক হাসেমকে দিয়ে দেয়।
গ্রেফতার দুইজনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
