পাইকারিতে চড়া দামের কারণে রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনও ৫০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে আলু। এ অবস্থায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিকার সংরক্ষণ অভিযানের ঝামেলা এড়াতে অনেক দোকানি আলু বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন।
একই কারণে দেশি পেঁয়াজও বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে দু’একটি বাজারে অভিযান চালিয়ে লাভ হবে না।
গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খুচরা বাজারে প্রতি পিস ডিমের দাম ১২ টাকা, আলুর দাম প্রতি কেজি ৩৫-৩৬ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ৬৪-৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়।
ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে দুই দফায় ১০ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামকে পাত্তাই দিচ্ছে না।
রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছিলো ৫০ টাকা কেজি দরে।
বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে এখনো প্রতি কেজি আলু ৪৪/৪৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। যাতায়াত খরচ যোগ করে ভোক্তা পর্যায়ে সেই আলু তারা ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। বাড়তি দামের বিষয়টি আড়াল করতে খুচরা বিক্রেতাদের ক্রয় রশিদও দিচ্ছে না পাইকাররা।
এক বিক্রেতা একাত্তরকে বলেন, ‘ক্রেতারা অনেকে মেমো চাইছে। আমরা বলে দিচ্ছি, মেমো দিতে পারবো না। ভালো লাগলে নেন না লাগলে নিয়েন না। সরকার যে দাম বেঁধে দিয়েছে আমরা সেই দামে পাচ্ছি না।’
পলাশী বাজারেও আলু ৫০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।
এই অবস্থায় ভোক্তার অধিকারের অভিযানের ঝামেলা এড়াতে অনেক দোকানি তাই আলু বিক্রিই কমিয়ে দিয়েছে।
এই বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা কী করবো। আমরা যেভাবে কিনি, সেইভাবেই বিক্রি করি। ৫০ টাকায় বিক্রি করলেও লাভ হয় না। এই জন্য আলু বিক্রি করছি না। আজ তিনদিন হলো আলুই রাখছি না।’
আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘খুচরা নিলে ৫০ টাকা প্রতি কেজি রাখছি। কেউ যদি পাঁজ কেজি নেয় তবে ৪৮ টাকা রে রাখছি।’
প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান হচ্ছে। কিন্তু, সপ্তাহ পেরুলেও আলু, পেঁয়াজের সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর করা যায়নি।যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
ক্রেতারা বলছেন, কোল্ড স্টোরেজ থেকে পাইকারি হয়ে খুচরা বাজার। প্রতিটি ধাপেই কঠোর নজরদারি দরকার।
এক ক্রেতা বলেন, ‘সরকার যে দাম বেঁধে দিয়েছে তা আমরা একদিনও পাচ্ছি না। সরকার অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু মানুষ যদি সৎ না হয় তাহলে কী হবে?’
দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি করছে না বিক্রেতারা। অনেক জায়গায় মজুতদাররা হিমাগার থেকে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
বাজার স্থিতিশীল না হলে কঠোর অবস্থান নেবে সরকার। প্রয়োজনে আলু আমদানি করা হবে। নীলফামারীতে বিভিন্ন হিমাগারে অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভোক্তা অধিকারের সংরক্ষণ অধিপ্তরের মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, ‘যার বেশি টাকা আছে সে এখানে বিনিয়োগ করে পুরো বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলছে। আমরা সেই জায়গাটা ভাঙতে চাচ্ছি। যে দেশ আলু রপ্তানি করে। এখন আমাদের নাম লেখা হবে আলু আমদানিকারক দেশ। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে হয়তো আমাদের এই কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে পারে।’
বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না আলু-পেঁয়াজ-ডিম
নির্ধারিত দরকে পাত্তাই দিচ্ছে না আলু-পেঁয়াজ কারবারিরা
মুন্সীগঞ্জে বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না আলু
সরকারের ঠিক করা দাম পাত্তাই দিচ্ছে না আলু ব্যবসায়ীরা