দেশের শাসন ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকতে হবে। তাই যে কোনো মূল্যে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে।
শনিবার সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এ তাগিদ দেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, রাজনীতিবিদের কথায় মনে হয় তাদের দরকার শুধু ক্ষমতা, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই।
‘রাজনীতির প্রকাশে- আড়ালে?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা বলেন, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের কথায় মনে হয় না এটি সার্বভৌম কোনো দেশ। কারণ, দুই দলের নেতারাই বিদেশিদের কাছে যে ধরনা দিচ্ছেন, তা প্রকাশ্যে বলছেন।
গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন ‘খেলা হবে’ বলে তখন আমার কাছে সাধারণ মানুষের প্রতি খানিকটা সংবেদনশীলতার অভাব মনে হয়। কেননা, রাজনীতি অনেক সিরিয়াস বিষয়। মানুষের জীবন-মরণ জড়িত।
মোজাম্মেল বাবু আরও বলেন, বাংলাদেশের মূল ভিত্তি বাংলার সংস্কৃতি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে কিন্তু বিনিয়োগ করছি না। এবং আমাদের অর্থনীতিটা ঠিকভাবে চালাচ্ছি না। অল্প কিছু মানুষের জন্য আমাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটা আমরা বুছি। কিন্তু তার প্রতিকার নির্বাচনের আগে যদি করতেও না পারি, নির্বাচন পরবর্তী সরকার সেদিকেই সবচেয়ে বেশি মনযোগী হবেন এটাই আশা করি।
সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, ক্ষমতা, ক্ষমতা আর ক্ষমতা। এই ক্ষমতায় কে কীভাবে যেতে পারবে, টিকে থাকতে পারবে এটাই হলো তাদের আসল উদ্দেশ্য। তাদের কাছে অর্থনীতি মূল না। তাদের কাছে জনতা মূল না। তাদের কাছে ভোটাররা মূল না
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন বলেন, আমি একজন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার কাছে মনে হয়, আমার সার্বভোমতের ওপর হামলা।
এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম বলেন, আনওয়ান্টেড যেকোনো তলে তলে যেকোনো লিয়াঁজো, যেকোন ধরনের বোঝাপড়া গ্রহণযোগ্য নয়।
অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, ওবায়দুল কাদেররা যেটা বলেন, এমনকি মির্জা ফখরুলরা যা বলেন, সে লেভেলে আমরা এখানে যারা আছি তারা কিন্তু ওইগুলো শুনে বড় হয়নি। আমি সবসময় বলি, পাকিস্তানের একটা ডাকটিকিট বুকের মধ্যে রয়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কুড়ি বছর থেকে… আমরা যে এত চিৎকার করলাম, এতকিছু করলাম, তারাতো কোনো গুরুত্ব দিলো না। হলে এই দেউলিয়াপনাতো হতো না।
মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, আজকে তারা রাজনীতিটাকে নিয়ে এসেছেন একটা আসনকেন্দ্রিক জায়গায়। একটা আসনকে ঘিরে রাজনীতি করছে। অন্যরাতো সেটা করতেই পারে, যারা বাংলাদেশকে চায়নি। কিন্তু আপনারাতো সেটা চাননি। আপনাদের ইশতেহার কী বলেছে। আপনাদের ইশতেহার অনুযায়ী কোন কাজটা করেছেন সেটা জবাবদিহি আমার কাছে করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কেন বলতে হবে, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এটা বলার কথা?
আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। ক্ষমতা থাকতে হবে রাজনীতিবিদদের হাতে অন্য কোন গোষ্ঠীর কাছে নয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘দেশ পরিচালনা রাজনীতিবদরা করছেন এবং রাজনীতিবিদদেরই করতে হবে। এর বাইরে নাগরিক সমাজ, সিভিল সোসাইটি-এগুলো আমরা আলোচনা করবো। কিন্তু দেশটা রাজনীতিবিদদের হাতে থাকতে হবে। না হলে হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা বলেন, আমরা অনেক বুঝি, অনেক জানি-এই বিষয়টা অবমূল্যায়ন করাটা রাজনীতিবিদদের জন্য অনেক বড় একটা ভুল। পলিটিকাল রেটোরিক দিয়ে আমাদের ক্রিটিকাল ইস্যুগুলো পাশ কাটানো ঠিক হবে না।
