চোখের সামনে স্ত্রীকে পুড়ে যেতে দেখেও কিছু করতে না পারার যন্ত্রণাই এখন বেশি কাতরাচ্ছে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা আসিফ মোহাম্মদ খান।
বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের আগুনে দগ্ধ ৩০ বছরের এই যুবক এখন নিজেই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসিফের শরীরের আট শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
শুক্রবার রাতের বিভীষিকাময় সেই আগুনের কথা মনে হলেই বুকের মধ্যে অসীম বেদনায় আক্রান্ত হচ্ছেন আসিফ। স্ত্রী নাতাশা জেসমিনকে চোখের সামনে আগুনে পুড়ে মারা যাবার ঘটনা তিনি মানতে পারছেন না।
সাংবাদিকদের দেখা মাত্র তার একটাই প্রশ্ন, কী দোষ করেছিলো তার স্ত্রী, কেন তাকে এভাবে মরতে হলো।

দগ্ধ আসিফ বলেন, আমারা ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ঢাকার কমলাপুর আসার পথে হঠাৎ ট্রেনের কামরার মধ্যে আগুন দেখতে পাই। আগুনের আমার চোখের সামনে আমার স্ত্রী পুড়ে যাচ্ছে, কিন্তু ওকে বাঁচাতে পারলাম না; আগুনের লেলিহান শিখার কাছে কিছুই করার ছিল না। পরে আমি লাফিয়ে নেমে যাই।
পরে পথচারী মুরাদ হোসেন তাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসিফের শরীরের আট শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে নজরে রাখা হচ্ছে।
আসিফের বাসা ৭৬ নং শরৎগুপ্ত রোড গেন্ডারিয়ায়। সেখানে এখন চলছে শোকের মাতম। দগ্ধ আসিফ রহমান খানের বাবা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক খান জানান, তার ছেলে বের হতে পারলেও, ছেলের বউ স্ত্রী নাতাশা বের হতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, আসিফ ও তার স্ত্রী নাতাশা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। আগুন লাগার পর তারা দরজা দিয়ে বের হতে না পেরে আসিফ জানালা দিয়ে মাথা বের করলে লোকজন তাকে টেনে বের করে। কিন্তু তা স্ত্রী বের হতে পারেনি।

রাজধানীর গোপীবাগে ট্রেনে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনের ঘটনায় আসিফ মোহাম্মদ খান (৩০) নামে এক যুবক দগ্ধ হয়েছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ওই ট্রেনে চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
বেনাপোল এক্সপ্রেসের আগুন দগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। এদের মধ্যে দগ্ধ আটজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দগ্ধদের সবার অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আট জনের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।
কীভাবে আগুন দেওয়া হলো বেনাপোল এক্সপ্রেসে, জানালেন যুবদল নেতা
বেনাপোল এক্সপ্রেসে নাশকতার ‘হোতা’ নবী ৩ দিনের রিমান্ডে