পৌষের শেষদিনে সাকরাইন উৎসবে মাতলো পুরান ঢাকা। ঘুড়ি উৎসব আর আতশবাজির আলোয় বুড়িগঙ্গা পাড়ে তৈরি হয় অন্যরকম আবহ। ছেলে-বুড়ো সবাই মিলে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় পুরনো ঢাকার বাসিন্দারা। এই আয়োজনে যোগ দিয়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বলেন, এমন উৎসব নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়।
রোববার ছিলো পৌষের শেষ দিন। কুয়াশাচ্ছন্ন শহর আর পুরান ঢাকা আকাশ জুড়ে ঘুড়ির ওড়াউড়ি। পৌষ সংক্রান্তির ঐতিহ্যবাহী আয়োজন সাকরাইন উৎসবের কথাই বলা হচ্ছে। পুরান ঢাকার অলি গলিতে সাকরাইন উৎসবের রেশ। ছেলে-বুড়ো, পরিবারের সবাই মিলে ছাদে ছাদে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা। নানা আকারের ঘুড়ি আর সুতা কাটাকাটির খেলা। সাথে পিঠাপুলির বিশেষ আয়োজন।
পৌষের বিদায়ক্ষণে সকাল থেকেই শীত ও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশকে ভেদ করে বাহারি রঙের ঘুড়ি উড়তে শুরু করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় কুয়াশাছন্ন আকাশে জমে উঠছে না ঘুড়ি উৎসব। শীতের কারণে ঘুড়ি কাটা কাটির আমেজ পাচ্ছেন না তরুণ-তরুণীরা। আকাশ জুড়ে গোমড়া আবহাওয়ার কারণে এবার রং ছড়াতে পারছে না ঘুড়ি উৎসব। তবে উৎসবের কোন কমতি ছিলো না।
গেন্ডারিয়ায় ধূপখোলা মাঠে ঘুড়ি ওড়াতে ব্যস্ত এলাকার তরুণ মাহমুদ বলেন, বন্ধুরা মিলে দুপুর থেকে ঘুড়ি ওড়াচ্ছি। সকাল থেকে কুয়াশা ছিল। ভাবছি বিকেলের দিকে ঠিক হবে। এখনো সেই অবস্থাই, বাতাসও কম।
আরেক তরুণ রাজ্জাক বলেন, কুয়াশার কারণে ঘুড়ি দেখা যায় না। কাটাকাটি করতে পারি না। রোদ থাকলে ভালো হতো। তারপরও আমরা উৎসব করছি, এটা আমাদের ঐতিহ্য।
সন্ধ্যা নামতেই অন্যরকম রঙ পায় সাকরাইন উৎসব। পুরান ঢাকার প্রায় প্রতিটি ভবনের ছাদ থেকে একযোগ ফোটানো হয় আতশবাজি। ছাদে ছাদে রঙিন আলোর রোশনাই। মুখে আগুনে হল্কা নিয়ে উদ্যাম তারুণ্য। আতশবাজির এমন আয়োজন শেষ হতেই ছাদে ছাদে শুরু হয় ডিজে পার্টি। নেচে-গেয়ে সাকরাইনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় সবাই, সব বয়সের মানুষেরা।

বিকেলে ধূপখোলা মাঠে উৎসবে যোগ দিয়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্য বজায় রেখে আগামীর স্মার্ট শহর নির্মাণে কাজ করছেন তারা। আনন্দে মাতেন মেয়র নিজেও। বলেন, ঘুড়ি উৎসব বা সাকরাইন উৎসব ঢাকার প্রাচীনতম ঐতিহ্য। এই উৎসব উদযাপনে আজ আমরা গেন্ডারিয়ার ঐতিহ্যবাহী ধুপখোলা মাঠে সমবেত হয়েছি।
মেয়র আরও বলেন, আপনারা লক্ষ্য করছেন, গেন্ডারিয়াসহ ঢাকার আকাশ আজ ঘুড়িতে ছেয়ে গেছে। আমরা চাই, আমাদের তরুণেরা, আমাদের সন্তানেরা ঐতিহ্যকে ধারণ করবে। তারা সারা বছর ঘুড়ি ওড়াবে এবং ছাদ-মাঠসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা ঘুড়ি উড়িয়ে আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করবে।
আয়োজন সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে সাকরাইন উৎসবের আয়োজন শুরু করি। পরে আমরা প্রতি বছর এটা আয়োজন করে চলেছি। করোনার প্রকোপের জন্য একটি বছর আমরা এই আয়োজন করতে পারিনি।
অনিয়ন্ত্রিত আতশবাজি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ চেয়ে রিট