রাজধানী ঢাকার অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে শহরে সবুজায়ন বাড়াতে ‘নগর বন’ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে এবং এতে নগরবাসীকে যুক্ত করতে চান বলে জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন।
বৃহস্পতিবার একাত্তর প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শহরের তাপ নিয়ন্ত্রণে তার নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার সময় এ কথা জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণ হিসেবে চিফ হিট অফিসার বলেন, রাজধানী ঢাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছেনা, পানি ব্যবস্থারও ঠিক-ঠিকানা নেই। জলাধার ভরাট করে ফেলার ফলে গরম বেশি। নতুন ভরাট করা অঞ্চলে কোনো গাছপালা নেই। বায়ুমণ্ডলে নিঃসরণ হওয়া নানা বিষাক্ত পদার্থ তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে ফেলছে।
যেখানে গাছ কম, অনেক বিল্ডিং, খোলা জায়গা নেই, প্রচুর মানুষের বসতি, সেখানেই প্রচণ্ড গরম বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব স্থানের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা নীতি পরিবর্তন দরকার, কিছু নিয়ম তৈরি দরকার, নগরায়ন নিয়ে আমাদের যে ধারণা রয়েছে, তার পরিবর্তন দরকার।
নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ আরও কিছু সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেশকিছু কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে বলে জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চিফ হিট অফিসার।
চিফ হিট অফিসার জানান, কল্যাণপুর ও বনানীতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আমরা নগর বন তৈরি করতে যাচ্ছি। যা একই সঙ্গে শীতলীকরণ, বায়ু দূষণরোধ এবং মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি করবে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশী প্রজাতির গাছ বাড়ানো হচ্ছে এবং এ বছর নতুন করে আরও পাঁচ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নগরে সবুজায়ন এ প্রক্রিয়ার সাথে কমিউনিটির মানুষদের যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তারা সিটি কর্পোরেশনের সাথে চুক্তির মাধ্যমে রোপণ করা গাছপালার দেখাশোনা করছে। গাছের পেছনে প্রচুর সময় দিতে হয়, নিয়মিত পানি, সার ও ওষুধসহ আরও নানা পরিচর্যার দরকার হয়।
এজন্য সিটি কর্পোরেশন তাদের নানাভাবে স্বীকৃতি ও প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। এসব ‘গ্রিন জব’ ও ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন স্কোপ’-এ শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বাচ্চারাই গাছগুলোর ক্ষতি করে, গাছের চারা তুলে ফেলে। তাই এ গাছগুলো রোপণ ও সংরক্ষণের সাথে তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে, সে ঝুঁকি অনেক কমবে বলে মনে করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের অন্যান্য নানা সংস্থার সমন্বয়ে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার বলে তিনি মনে করেন বলে জানান চিফ হিট অফিসার।
তীব্র গরমে পানি সংকটে নাকাল রাজধানীবাসী