প্রচণ্ড গরমে কারো কাছে পানি খেতে চাইলে ফিরিয়ে দেবেন, এমন মানুষ এই মুহূর্তে পাওয়া ভার। কিন্তু অবলা প্রাণিরা মুখফুটে এই কথাটিই বলতে পারে না। প্রাণিগুলোর কথা চিন্তা করে এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০টি কুকুর ও অসংখ্য বিড়ালের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
সরেজমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলে তীব্র দাবদাহে কাহিল কুকুর-বিড়াল আর পাখিরা। তাদের জন্য পানির যোগান দিতে এগিয়ে এসেছে ঢাবির কিছু শিক্ষার্থী।

অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার টিম অফ ঢাকা ইউনিভার্সিটির স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থী তানভীর জানান, চানখারপুল থেকে এসে কার্জন হলের কুকুর বিড়ালগুলোকে পানি দিয়ে যাচ্ছেন। টিএসসির কুকুর-বিড়ালগুলোর সেবায় শাহজাহানপুর থেকে ছুটে আসেন মিশকাত। হাতিরপুল থেকে আসেন শাইনী। এমন পাঁচ-সাত জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে বসিয়েছেন পানির পাত্র।
অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার টিম অফ ঢাকা ইউনিভার্সিটির স্বেচ্ছাসেবক শাইনী আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের পিপাসা লাগলে দোকানে গিয়ে টাকা দিয়ে পানি কিনে খেতে পারি। কিন্তু এই প্রাণিগুলোর সেই ক্ষমতা নেই।

স্বেচ্ছাসেবক মিশকাতুল মাশিয়াত বলেন, কুকুর-বিড়ালগুলো যেসব জায়গায় দল বেঁধে থাকে, সেসব জায়গায় পানির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরেক স্বেচ্ছাসেক রাফিউল হক তানভীর, এখন পর্যন্ত আমরা কার্জন, মোকাররম, মোতাহের, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নির্মাণাধীন সাইট, টিএসসি, শহীদ মিনার, সেন্ট্রাল মাঠ পর্যন্ত আমার এই সেবা দিতে পেরেছি।
ডেঙ্গুর বিস্তাররোধেও সচেতন এই তরুণরা জানান, আমরা প্রতিদিন নতুন পানি দেওয়ার চেষ্টা করি। টিউশনি কিংবা নাস্তার টাকা বাঁচিয়ে এই কাজ চালানো হচ্ছে।

তাদের দাবি, এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করলে অবলা প্রাণিগুলোকে সেবা দিতে সুবিধা হতো।
পাশপাশি হলে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে কাছে তাদের অনুরোধ, বৃষ্টির আগ পর্যন্ত পানির পাত্রগুলো চোখে পড়লে তারা যেন পানিটা পাল্টে দেন।
