পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ পাইপ সরাসরি খালে ঢুকিয়ে দেয়া সব বাড়িতে কলাগাছ থেরাপি দিতে না পারায় আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
ডিএনসিসির মেয়র পদে চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার গুলশানে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তরের মেয়র খাল দূষণ রোধে ‘কলাগাছ থেরাপি’র কথা উল্লেখ করে বলেন, বাড়ির বর্জ্য যেসব পাইপের মধ্য দিয়ে খালে ফেলা হয়, সেই প্রতিটি পাইপে কলাগাছ ঢুকাতে পারলে মনে শান্তি পেতাম। আমার ব্যর্থতা এখানে। কীভাবে বারিধারা, গুলশানের লোকরা খালের মধ্যে কালো বর্জ্য দিয়ে দিচ্ছে। এটি কষ্ট লাগে।
নিজের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিক বলেন, পরীক্ষা যে দেয় সে কিন্তু রেজাল্ট দেয় না। আমরা পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। সফল, না ব্যর্থ সেটা আমার বলা ঠিক হবে না। এ দায়িত্ব আমি জনগণের ওপর, সাংবাদিকদের ওপর ছেড়ে দিলাম।
মেয়র পদে চার বছর থাকা অবস্থায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরেন মেয়র।
আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি আগামী এক বছর খালের দিকে ফোকাস দিতে চাই। এই খালগুলো পুনরুদ্ধারে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। আমি আমার কাউন্সিলরদের বলেছি, খালের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স।
তিনি বলেন, যখন দেখি খাল দূষণ হয়ে যাচ্ছে তখন খারাপ লাগে। কীভাবে মানুষ বাথটাব, টেলিভিশন, ফ্রিজ, জাজিম খালের মধ্যে ফেলে দেয়। এতে তো জলাবদ্ধতা হবেই।
আতিকুল ইসলাম বলেন, আমার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কাওরান বাজারকে স্থানান্তর করা। এটি আমরা হাতে নিয়েছি, আশা করি সফলতার সঙ্গে করতে পারবো।
এ সময় মেয়র জানান, ডিএনসিসির ১৮টি ওয়ার্ডকে সাজাতে হবে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ বাড়তে হবে।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন আতিকুল ইসলাম। একই বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি শপথ নিলেও দায়িত্ব বুঝে পান ১৪ মে।
গুলশানের খালে পানি নিষ্কাশন নালা ও পয়ঃবর্জ্যের পাইপ লাইন বন্ধে ২০২৩ সালে বেশ কিছু বাড়িতে অভিযান চালান তিনি।
যেসব বাড়ি থেকে পয়ঃবর্জ্যের পাইপ খালে নিয়ে ঢোকানো হয়েছে, সেসব পাইপের বাইরের মুখ কলাগাছ দিয়ে আটকে দেয়া হয়। ওই ‘কলাগাছ থেরাপি’ হিসেবে পরিচিতি পায় মেয়র আতিকের এ কার্যক্রম।
গুলশানের মত বারিধারা, বনানী ও নিকেতন আবাসিক এলাকাতেও একইভাবে পয়ঃবর্জ্যের লাইন বিছিন্ন করার চেষ্টা চালান তিনি।
এতে ‘ফল পাচ্ছেন’ উল্লেখ করে তখন মেয়র বলেছিলেন, যে কয়েকটা বাড়ির সুয়ারেজ লাইনে কলাগাছ ঢুকিয়েছি, তারা এখন পাগল হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম, সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।
