চাঁদপুরের আলাচিত পারভীন হত্যা মামলায় ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
একই মামলায় বাকি দুই আসামি রসু খাঁর ভাগ্নে জহিরুল ইসলাম (৩৫) ও তার সহযোগী মো. ইউনুছকে (৩৮) মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আয়েশা ফ্লোরা, মো. রবিউল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও বেলজীস নাফিসা হক। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সফি উল্লাহ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত ৪ জুলাই রসু খাঁসহ তিনজনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে সিরিয়াল কিলার রসু খাঁসহ তিন আসামির অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরেছি। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আরজি জানিয়েছিলাম।
২০০৯ সালের ২০ জুলাই রাতে রসু খাঁ ও অন্য আসামিরা ফরিদগঞ্জ উপজেলার মধ্য হাঁসা গ্রামের মাঠে পারভীন আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, পারভীনের বাম স্তনে ও দুই পায়ের উরুতে ২০টি সিগারেটের ছেঁকার দাগ ছিল। ওই সময়ে পারভীন অজ্ঞাত হওয়ার কারণে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মীর কাশেম আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
পরে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন এসআই মোশফিকুর রহমান ঘটনার তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খাঁ, মসজিদের ফ্যান চুরির ঘটনায় কমিউনিটি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একে একে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তথ্য। রুস খাঁ নিজের মুখে স্বীকার করেন ১১ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা। ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে একসময় সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয় রসু খাঁ। ১০১টি হত্যার লক্ষ্য ছিলো তার। আটক হওয়ার আড়াই মাস আগে পারভীনকে হত্যা করে রসু খাঁ। রসু যাদের হত্যা করেছেন, তারা সবাই ছিলো তৈরি পোশাক খাতের কর্মী। পরে তাকে ও তার দুই সহযোগীকে পারভীন হত্যা মামলায় আসামি করা হয়।
২০১৮ সালে ওই হত্যা মামলায় রসু খাঁসহ তিনজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল মান্নান। এরপর মামলার নথিসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রসু খাঁ চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামের মুন খাঁ ওরফে আবু খাঁর ছেলে। জহিরুল পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সৈয়াল বাড়ির মো. মোস্তাফার ছেলে। আর ইউনুস একই গ্রামের মৃত মিসির আলীর ছেলে।
হত্যার শিকার পারভীন আক্তার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিয়নের পালতালুক গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী। তার বাবার নাম মৃত কাজল খান।
মতিউরের স্ত্রী-সন্তানের পাসপোর্ট ও এনআইডির তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি