জুলাই সনদ ঘোষণা, অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং ফ্যাসিস্টের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন চান না শহীদ ও আহত পরিবারের স্বজনরা। তাদের শঙ্কা, বিচার নিশ্চিত ছাড়া নির্বাচন হলে হারিয়ে যেতে পারে তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি। রাজনীতিবিদ আর বিশিষ্টজনরা বলেন, আগামীর রাজনৈতিক শক্তিকে জুলাই ধারণ করতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে সম্মিলন আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন। মঞ্চে অস্থায়ী বেদি নির্মাণ করে জুলাই আন্দোলনকারীদের সম্মান জানানো হয়।
গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক এই আলোচনায় বক্তব্য দেন আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তুলে ধরেন জুলাই নিয়ে নানান স্বপ্ন ও শঙ্কার কথা।

শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা বলেন, জুলাই সনদের আগে নির্বাচন তারা হতে দেবেন না।
আলোচকরা বলেন, জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের ভুলে গেলে ভবিষ্যতে সরকারকে মীরজাফর হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী দিনে রাজনৈতিক শক্তি জুলাইয়ের পক্ষে না থাকলে সবকিছু বেহাত হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে এদেশের মানুষ বুক চিতিয়ে এক মরণপণ লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। আমরা শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যে কৃতজ্ঞতা অবশ্যই আমাদের রাজনীতিতে প্রতিফলিত হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও আমাদের দল এই রক্তের ঋণ মনে রাখবে। এদেশের রাজনীতিতে যদি এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি শুরু হয়, আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। আসছে ৫ আগস্টের আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা ব্যাখ্যা চাই, কেন এত দিনেও শহীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হলো না। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই, কত দিনের মধ্যে ও কীভাবে শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হবে, সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের জীবনের দায়িত্ব নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগেই আমরা ন্যায়বিচারের যথাযথ দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠন, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনের সংকটের সমাধান করতে হবে। অভ্যুত্থানের সরকারের বৈশিষ্ট্য হবে জনগণের সকল সংকট মোচনের জন্য সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব ছিল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা। আমাদের ঐক্যবদ্ধতাই সংস্কারকে নিশ্চিত করতে পারবে। আগামী নির্বাচনে ভোট হবে সংস্কারকে প্রতিষ্ঠিত করার হাতিয়ার। ৫ আগস্ট আমাদের অর্জিত বিজয়কে সুরক্ষিত করার জন্য জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির দরকার।
এসময় ১ আগস্ট আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই সমাবেশ করার ঘোষণাও দেন জোনায়েদ সাকি।
সম্মিলনে আরও বক্তব্য রাখেন- শহীদ জুলফিকার শাকিলের মা আয়েশা বিবি, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভুইয়া, শিক্ষক হাসান আশরাফ, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বাবা মাহবুবুর রহমান, নির্মাতা আকরাম খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা উমামা ফাতেমা, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী হুমায়রা নূর, শহীদ ইয়ামিনের বাবা মো মহিউদ্দিন, শহীদ মইনুলের স্ত্রী মায়মুনা ইসলাম, শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা একেএম রকিবুল ইসলাম, জুলাইযোদ্ধা আল আমিন, জুলাইযোদ্ধা মাওলানা শফিকুর রহমানসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা।
সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
তরুণদের প্রতি আস্থা রেখে এনসিপিকে সুযোগ দিতে বললেন নাহিদ ইসলাম